আমি এই কথাটি অনেক বক্তব্যে বলেছি। নিজেকেও বারবার বলি। আর এভাবে বলতে গিয়ে কখনো ক্লান্ত হই না। আপনারা হয়তো দশ-বিশবার আমার কাছ থেকে এ কথা শুনে থাকবেন। আর শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে গেছেন। তবু আমি ক্লান্ত হই না। তবু বলে যাই। কারণ, কথাটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ। কুরআনের সাথে আমার সত্যিকারের সম্পর্ক কোনো বক্তৃতা বা ওয়াজ শুনার সময়ে ঘটে না, মুখস্ত করার সময়েও নয়। জানেন? কখন কুরআনের সাথে আমার সত্যিকারের সম্পর্ক গড়ে উঠে? যখন আমি সালাতে দাঁড়িয়ে কুরআন তিলাওয়াত করি। যখন আমি সালাতে দাঁড়িয়ে কোনো ইমামের তিলাওয়াত শুনি। কুরআনের সাথে আমাদের আসল সম্পর্ক দৈনিক কমপক্ষে পাঁচবার স্থাপিত হয়। কারো নামাজ যদি ঠিক থাকে, তার কুরআনও ঠিক আছে। কেউ যদি নামাজের মধ্যে কুরআনের সাথে সম্পর্ক গড়ে না তুলে, তাহলে কুরআনের সাথে তার সম্পর্কটা সম্পূর্ণরূপে কৃত্রিম। এর কোনো অর্থ নেই। সম্পর্কটা পুরোটাই একাডেমিক এবং ভাসাভাসা। কুরআনের সাথে সত্যিকারের আন্তরিক সম্পর্ক ঘটে সালাতে। এই বই সম্পর্কে যা কিছু আমি শিখি, যা কিছু আপনারা শিখছেন; এটা তাজবিদ হউক, এর ভাষা হউক, তাফসীর হউক বা আয়াত মুখস্ত করা হউক এ সবকিছুর উদ্দেশ্য একটাই- আমার নামাজটা আরেকটু উত্তম হবে। আমার নামাজ যদি উত্তম না হয়, সবকিছুই ব্যর্থ হয়ে গেলো। কোনো কিছুই আর কোনো গুরুত্ব বহন করে না। কারণ নামাজ হলো- আমি সবার সাথে কথা বন্ধ করে আল্লাহর সাথে কথা বলা শুরু করি। আমি আল্লাহর সাথে তাঁর শেখানো আয়াতগুলো দিয়ে কথা বলা শুরু করি। এই কথোপকথনটাই আসল গুরুত্ব বহন করে। যদি এটা ঠিক না থাকে, তাহলে জীবনের অন্য সবকিছুই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়ে গেল। - উস্তাদ নোমান আলী খান।
Comments
Post a Comment