Skip to main content

ইমোশনাল বার্ন-আউট


 আজকালকার প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে burn-out কথাটার সাথে আমরা কমবেশি সবাই পরিচিত। শারীরিক burn-out, সোশ্যাল burn-out সবগুলোই দেখা গেলেও, সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ইমোশনাল বার্ন-আউট।

সময়ের সাথে সাথে জীবনের রং ক্রমশ পাল্টাতে থাকে। পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়তি দায়িত্ববোধ, চাকরির সন্ধান, চাকরির মানসিক চাপ, পারিবারিক চাপের সাথে খাপ খাওয়ানোর পর, জীবনে মানসিকভাবে সুস্থ থাকাটাই একটা বড় বিষয়! যখন এই চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের সহ্য ক্ষমতা ছাড়িয়ে যায় তখনই জন্ম নেয় - ইমোশনাল বার্ন-আউট। সময়ের সাথে সাথে যদি এই ইমোশনাল বার্ন-আউটের সমাধান না করলে, মানসিক সমস্যার পাশাপাশি তৈরি হয় উচ্চ রক্তচাপের মতো নানা শারীরিক সমস্যাও। মনের বিরুদ্ধে কাজ করতে করতে একসময় সামাজিক দক্ষতা কমে যায়, মানুষ নিজের অনুভূতির উপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকে। এসব সমস্যা মোকাবেলার জন্য আমাদের জানতে হবে আমরা কিভাবে ইমোশনাল বার্ন-আউটের সম্মুখীন হলে সমাধান করতে পারি ~ ১. পৃথিবীর যেকোন সমস্যার সমাধানে প্রথম ধাপ হলো - সমস্যা আছে সেটিকে স্বীকার করা। 'কিছুই হয় নাই, সব ঠিক আছে' - খারাপ লাগলে এই বিশ্বাস থেকে বের হয়ে আসতে হবে। ২. এরপর খুঁজে দেখুন, নির্দিষ্ট কোন কারণে আপনি মানসিকভাবে পরিশ্রান্ত কিনা। সম্ভব হলে কারণটি সমাধান করুন। আবার এমনও হতে পারে নির্দিষ্ট কোন কারণ ছাড়াই, সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে আপনি মানসিকভাবে ক্লান্ত। ৩. সমস্যার পরিবর্তন করা সম্ভব না হলে, চিন্তা করে দেখুন সে সমস্যার পরিমার্জন সম্ভব কিনা। যদি সেটাও সম্ভব না হয়, তাহলে আপনার কাছে একটি পথই খোলা থাকে - তা হলো খাপ খাইয়ে চলা। এবার চিন্তা করে দেখুন, কোন সমাধানটি আপনার জন্য প্রযোজ্য। ৪. যদি আপনার ইমোশনাল বার্ণ-আউটের কারণ কর্মক্ষেত্রের চাপ হয়ে থাকে, তাহলে কাজ থেকে কিছু দিনের ছুটি নিন। পরিবারকে সময় দিন, সম্ভব হলে কোথাও বেড়িয়ে আসুন। এই ব্রেক আপনাকে আবার নতুন উদ্যমে কাজে ফিরে আসতে সাহায্য করবে। ৫. আমাদের বর্তমানের এই চাপযুক্ত পৃথিবীতে খুবই জরুরি হলো - নিজের জন্য কিছু সময় রাখা। কিন্তু প্রতিযোগিতার ভিড়ে আমরা বেশিরভাগ মানুষই নিজের জন্য কোন সময়ই পাই না! প্রতিদিন কিছুক্ষণ হলেও নিজের পছন্দের কোনো কাজ করা, কিছু সুস্থ শখের চর্চা করা - এসব দীর্ঘমেয়াদি মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। ৬. মানসিক সুস্থতার জন্য দৈনিক ৮ ঘন্টা ঘুম, রুটিনমাফিক পরিমিত খাওয়া এবং শারীরিক ব্যায়াম - এই তিনটির জুড়ি মেলা ভার! ৭. অবসাদের পিছনে বিষন্নতা বা কোন মানসিক রোগ দায়ী কিনা ভেবে দেখুন। ৮. ভেবে দেখুন, আপনি আপনার কাছে খুব বেশি কিছু আশা করে হতাশ নয় তো? অসম্ভব চাহিদা থেকে বেরিয়ে এসে জীবনের প্রাপ্তিগুলোকে উপভোগের চেষ্টা করুন। ৯. তুলনা ও এক্সপেকটেশানস এড়িয়ে চলুন। ১০. সবশেষে, একা মানসিক অবসাদ থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব না হলে সাহায্য নিন; এই সাহায্য আসতে পারে পরিবারের কারো থেকে, বন্ধুদের থেকে অথবা কোন প্রফেশনাল মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ থেকে। মনে রাখবেন, সাহায্য চাওয়ার মাঝে ছোট হবার কিছু নেই! আপনার সুস্থতা অনেক বেশি দামি, হোক তা শারীরিক বা মানসিক। নিঃসন্দেহে আপনি এই সুস্থতার দাবিদার! ------------

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...