Skip to main content

গর্ভবতী মায়ের মানসিক চাপ

 


আপনার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের ঘটনা কোনটি - জিজ্ঞেস করা হলে অধিকাংশ নারী না ভেবেই উত্তর দিবেন 'মা' হওয়ার মুহূর্তটি! এদেরকে যদি আবার জিজ্ঞেস করা হয়, জীবনের সবচেয়ে স্ট্রেসে কখন সময় কেটেছে? উত্তরটা অধিকাংশ সময়ই হবে গর্ভধারণের সময়!

অন্ত:সত্ত্বা একজন নারীর মনের গল্পটা আমরা ক'জন জানি? শারীরিক পরিবর্তনের সাথে সাথে অনাগত সন্তানের চিন্তা, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা, সব মিলিয়ে না চাইতেও যেন মনে ভয় চলে আসে! এর সাথে যখন যোগ হয় মানুষের কথা,তখন বিষয়টি যেন ভয়ঙ্কর মানসিক চাপে রূপ নেয়! "এভাবে হেঁটো না!" "এটা খেও না!" "এটা খাও!" "তুমি দেখি বাচ্চার ব্যাপারে কিছুই জানো না!" "আরে এসব বমি সবার হয়, কিছু না!" "আমাকে জিজ্ঞেস করে নিতা!" মেনে নিচ্ছি, অবশ্যই সবাই বাচ্চার ভাল চান, হয়তো মায়েরও ভালই চান! কখনো ভেবে দেখেছেন আমাদের কথা শুনে তার মনের ভেতর ভয়টা কি কমছে বাড়ছে!? তার সাহায্যের জন্য বলা কথাগুলো উল্টা কাজ করছে না তো? বাচ্চা হলে আরো সমাজের পরামর্শ কয়েকগুনে বেড়ে যায়! কিভাবে শিশুর হাত ধরবে থেকে শুরু করে শিশুর ঘুম - হেন কোন বিষয় নেই যাতে আমাদের অভিজ্ঞতার কমতি আছে! মাঝে মাঝে কথা বলার সময় মনে হবে - মা বুঝি শিশুর ভালই চান না! গর্ভবতী মায়ের মানসিক চাপ কি শুধুই তার জন্য ক্ষতিকর? বর্তমান গবেষনায় প্রমাণিত যে, গর্ভকালীন পরিবেশ সরাসরি ভ্রুণের মানসিক বিকাশের সাথে জড়িত। 🌼 গর্ভকালীন সময়ে মা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় ভুগলে, সন্তানের অনুভূতি নিয়ন্ত্রনের সমস্যায় ভোগে। 🌼 এই বাচ্চার নিজেরও বিভিন্ন মানসিক সমস্যার সম্ভাবনা বেশি। 🌼 মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মা ঠিকমত সন্তানের যত্ন নিতে পারেন না। 🌼 JAMA Pediatrics গবেষনায় প্রমাণ করেন, হতাশাগ্রস্ত মায়ের সন্তারদের মস্তিস্কের 'হোয়াইট ম্যাটার' কম থাকে। এরসাথে গর্ভকালীন সময়ে অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে সন্তান জন্মের সময়ও তৈরি হতে পারে নানা জটিলতা। "মানসিক চাপ নিও না!" - বলাটা যত সহজ, নিজের জীবনে এপ্লাই করা কিন্তু ততটুকু সহজ নয়! এ জন্য প্রত্যেকটি গর্ভবতী নারীর শারীরিক যত্নের পাশাপাশি মানসিক যত্ন নেয়া অত্যন্ত জরুরি; তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাওয়া এবং শারীরিক চেক-আপের পাশাপাশি দরকার ~ 🌠 গর্ভকালীন জটিলতা বা আপনার অনুভূত গুলো নিয়ে মা, বোন, বা যে কারো সাথে কথা বলুন। 🌠 মানুষ মাত্রই ভুল। আপনার প্রেগনেন্সির সবকিছু পারফেক্ট হবে না, যারা আপনাকে পরামর্শ দিচ্ছে তাদের সবকিছুও কিন্তু নিখুঁত হয়নি! নিজেকে দোষারোপ করবেন না। 🌠 কোন কাজ খুব বেশি স্ট্রেসফুল মনে হলে, সেটি বাদ দিন। 🌠 শারীরিক ব্যায়ামের পাশাপাশি প্রতিদিন সামান্য হলেও মানসিক ব্যায়াম করুন। 🌠 পরিবার বিষয়ক কিছু ইতিবাচক পরিকল্পনা করে রাখুন। 🌠 প্রয়োজনে সাইকোলজিষ্ট এবং সাইকিয়াট্রিষ্ট - এর সাহায্য নিন। সবশেষে মনে রাখবেন একজন আত্মবিশ্বাসী মা-ই জন্ম দিতে পারেন একজন আত্মবিশ্বাসী সন্তান! সব ভুল ত্রুটির উর্ধ্বে আপনি একজন মা; এবং আপনার মানসিক সুস্থতা আপনার সন্তানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। . . . . .
"Sorry" শব্দটা খুব ছোট হলেও আমরা খুব সহজে নিজের ভুল বুঝে প্রিয় মানুষটা Sorry বলতে পারি না। শুধুমাত্র Sorry না বলতে অনেক সম্পর্ক ভেঙ্গে যাচ্ছে। আমরা ভেবে থাকি যে, কেন আমিই Sorry বলব? কেন সে আমাকে আগে Sorry বলবে না? কখন এমনটা চিন্তা করি যে, Sorry বলা মানে আমি হেরে গেছি কিংবা ছোট হয়ে গেছি। অথচ, কখনও এই বিষয়টা ভেবে দেখি না যে, আমাদের এই মানসিকতার কারনে অকালেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সম্পর্কগুলো।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...