ছেলে মেয়ের বিয়ের বয়স। বিয়ের প্রকৃত বয়স কত! এনিয়ে মহাবিপাকে দুনিয়ার মানুষ। অনেক অভিভাবক কুয়ার আরে সুরে বলে থাকে যে,'এখনো ছেলে বা মেয়ের বিয়ের বয়স হয়নি। আর কয়েক বছর অপেক্ষা করি তারপরই না হয় তাদের বিয়েটা দিই। ছেলে-মেয়ের পড়ালেখাটাও একপর্যায়ে পৌঁছুক কিংবা কোন চাকরি-বাকরি ধরে ফেলুক। না হয় বিয়ে করে তারা খাবে কি? বউকে দিবে কি? তাছাড়া পড়ালেখা শেষ না করে বিয়ে করলে লোক সমাজে মুখ দেখাই কিভাবে? ইত্যাকার প্রশ্ন আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন থেকেই চলে আসছে। জাতিসংঘ ছেলে - মেয়ে উভয়ের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বয়সসীমা নির্ধারণ করেছে আঠারো। এর আগে সবাই শিশু। তাই আঠারো বছরের আগে কোনো ছেলে কিংবা মেয়ের বিয়ে দেওয়া কথিত আন্তর্জাতিক আইনে সিদ্ধ নয়। কিন্তু বাস্তবে জাতিসংঘের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার এই বয়স নির্ধারণ করা কতটা যুক্তিযুক্ত? প্রকৃতপক্ষে বিয়ের প্রকৃত বয়স কত? এ প্রশ্নের জবাবে আমার দ্বিধাহীন বক্তব্য হলো, আপনি নিজ থেকে প্রথম যেদিন নিজের সাবালকত্ব সম্পর্কে পূর্ণ অনুভূতি লাভ করবেন, সেটাই আপনার উপযুক্ত বিয়ের বয়স। সব বিষয় দলিল - প্রমাণ দিয়ে হয় না। বিয়ের বয়স নির্ধারণের জন্যও কোনো দলিল - প্রমাণ তলবের প্রয়োজন নেই। কারণ কারও মতে বিয়ের বয়স হচ্ছে ত্রিশ। কেউ আবার মত দিয়েছেন চল্লিশ। আমার জবাব হলো : আল্লাহ মানুষকে যে ফিতরাতের উপর সৃষ্টি করেছেন, তার অনুকূল হলেই বিয়ে করে ফেলা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যেই কল্যাণকর। আমার দেওয়া জবাবটি বোঝার জন্যে একটা ভূমিকা উল্লেখ করা প্রয়োজন। মনে রাখবেন যে, আল্লাহ মানুষকে দুটি স্বভাবজাত গুণ দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। একটি হলো : মানবসত্তার সংরক্ষণ ভাবনা। এই ভাবনার কারণেই আমাদের ক্ষুধা লাগে। দ্বিতীয়টি হলো জাতিসত্তার সংরক্ষণ চেতনা। এই চেতনার তাগিদেই বংশধারা টিকে আছে। এই দুটির একটি বিশুদ্ধ প্রমাণিত হলে অপরটি নির্ভুল মেনে নিতে হবে। আচ্ছা বলুন তো, মানুষ কখন খাবার গ্রহণ করে? আপনি অব্যশই এ প্রশ্নের জবাবে বলবেন যে, যখন খাওয়ার চাহিদা হয় কিংবা ক্ষুধা লাগে তখনই মানুষ খাবারের প্রতি আগ্রহী হয়ে থাকে। আপনার এই জবাবের সূত্র ধরেই আমি বলব যে, মনের মাঝে জৈবিক চাহিদা পূরণের চাহিদা জন্ম নিলে কিংবা যৌন চাহিদা পূরণের তাগাদা অনুভব করলেই বিয়ের প্রকৃত বয়স হয়ে থাকে। কথাটা খোলাসা করার জন্য আবার বলছি ___ মানুষ কখন খাবার খায়? জবাবে আপনারা বলবেন, যখন ক্ষুধা লাগে তখন। তো আমিও বলবো, বিয়ে তখনই করবেন যখন কামনার উদ্রেক হয়, মনের সুপ্ত বাসনা জাগ্রত হয়। অর্থাৎ যে সময়ে পৌরুষ আসে, যৌবন আসে তখন। মোটামুটি সর্বোচ্চ আঠারো বছর ধরা যায়। আপনারা প্রশ্ন করবেন, এ বয়সে পৌঁছার পরও যদি বিয়ে করার মত অর্থ হাতে না থাকে, তাহলে কী করবো? আমি বলবো, ক্ষুধার্ত ব্যক্তির কাছে পয়সা না থাকলে সে যা করে, এই যুবকও তা - ই করবে। খাবার হাতে আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরবে। আপনারা বলবেন, যদি ক্ষুধার্ত ব্যক্তি ধৈর্য ধরতে না পারে সামনে অন্যের খাবার উপস্থিত পেয়ে চুরি করে খেয়ে ফেলে এবং হারাম কাজে লিপ্ত হয়, তাহলে আমরা কী করবো? এক্ষেত্রে আমার বক্তব্য হলো, প্রতিটি সমাজে অনাহারীদের জন্য খাবার ব্যবস্থা করা হয়, যেন তারা চুরি বা কোনো অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে। যদি কোন কারণে সমাজের লোক খাবারের যোগান না দিতে পারে এবং তাদের থেকে চুরির আশঙ্কা করে, তাহলে সাধারণ মানুষের কর্তব্য হলো, যার যার মাল ও অর্থ সম্পদ হেফাজত করা। এখন যদি বলেন যে, তাদের চুরি করা একদিকে বৈধ! কারণ, সমাজ তাদেরকে খাদ্যবঞ্চিত করেছে ; অথচ এটা তাদের জৈবিক অধিকার? অপরদিকে অবৈধ! অন্যের সংরক্ষিত জিনিসে তারা হাত লাগিয়েছে। ঠিক একই কথা বিবাহের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
Comments
Post a Comment