শিশুদের যতো ধরনের ক্যান্সার হয়, ব্লাড ক্যান্সার তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। শিশুদের যতো ক্যান্সার হয়, ব্লাড ক্যান্সারই তন্মধ্যে ৪০ ভাগ। ◼️ কী কী কারণে হয়ে থাকে এ ক্যান্সার? ১. অনেকক্ষেত্রেই প্রকৃত কারণ জানা যায় না। ২. কিছু জেনেটিক এবং ক্রোমোজোমের সমস্যার কারণে। ৩. র্যাডিয়েশানের সংস্পর্শ। ৪. কিছু ভাইরাসের ইনফেকশান। ৫. কিছু রাসায়নিক পদার্থ। ৬. কিছু ক্ষতিকর ওষুধ ইত্যাদি। ◼️ লিউকেমিয়া কতো ধরনের : এটি প্রধানত ২ ধরনের। ক. একিউট বা তীব্র লিউকেমিয়া খ. ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী লিউকেমিয়া এগুলোর মাঝে আরও ভাগ রয়েছে। ◼️ কী কী উপসর্গ থাকে? কিছু অনির্দিষ্ট উপসর্গ থাকে, যেমন : ১. খাবারে প্রচণ্ড অরুচি ২. সারাক্ষণ ক্লান্তিবোধ ৩. অল্পতেই বিরক্ত হয়ে যাওয়া ৪. শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা ◼️ কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ থাকে, যেমন : ১. জ্বর : অনেকদিন ধরে টানা জ্বর থাকতে পারে আবার মাঝে মাঝে আসে আবার ছাড়ে এমনও হতে পারে। ২. দিনকে দিন শিশু ফ্যাকাশে হয়ে যেতে থাকে। ৩. শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্তক্ষরণ, যেমন : নাক, মাড়ি, ত্বক ইত্যাদি ◼️ এছাড়া সাথে আরও থাকতে পারে : - খিঁচুনি - মাথাব্যথা - বমি - দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা - শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি। ◼️ চিকিৎসক পরীক্ষা করে দেখতে পান : - শিশুকে প্রচণ্ড অসুস্থ দেখা যায় - অল্পতেই বিরক্ত হয়ে যায় - গায়ে জ্বর থাকে - শরীরে রক্তশূন্যতার চিহ্ন থাকে - গায়ে র্যাশ দেখা যায় এবং রক্তক্ষরণ হয় - নাক এবং মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ দেখা যায় - লসিকাগ্রন্থিগুলো ফোলা থাকে - হাড়ে চাপ দিলে রোগী বেশ ব্যথা অনুভব করে; বিশেষত বুকের মাঝখানের হাড় এবং পায়ের হাড়ে। - পেটে চাকা চাকা পাওয়া যায়, লিভার এবং স্পিন বড় হয়ে যাবার কারণে। - কখনও কখনও অণ্ডকোষ বড় হয়ে যায়। ◼️ কী কী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়? ১. কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট ২. বোন ম্যারো স্টাডি ৩. সেরেব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড পরীক্ষা ৪. বুকের এক্স-রে ৫. রক্তে ইউরিক এসিডে এবং এল ডি এইচের মাত্রা ৬. রক্তে ইলেক্ট্রোলাইটসের মাত্রা ৭. রক্তে ক্যালসিয়াম এবং ফসফেটের মাত্রা ৮. রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা ◼️ কীভাবে চিকিৎসা করা হয়? - প্রথমেই শিশুর মা-বাবাকে রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়, এর চিকিৎসা সম্পর্কে বলা হয়, সম্ভাব্য জটিলতা সম্পর্কে জানানো হয়, এ রোগের আরোগ্যসম্ভাবনার কথাও বলা হয়। ◼️ কিছু সাপোর্টিভ চিকিৎসা দেওয়া হয় : - এন্টিবায়োটিক - মুখে ফাঙ্গাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে এন্টিফাংগাল ড্রপ - মাউথ ওয়াশ - হিপ বাথ - পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা - রক্ত পরিসঞ্চালন - জ্বর কমানোর জন্যে প্যারাসিটামল ◼️ নির্দিষ্ট চিকিৎসা : ১. কেমোথেরাপি ২. বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন: এটিই রোগ নিরাময়কারী চিকিৎসা।
source-lifespring limited
Comments
Post a Comment