১৮৩৫ সালে চার্লস ব্রুস বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দায়িত্ব পান। প্রথমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চীনের চা উৎপাদন শুরু করে কিন্তু সেই চা নিম্নমানের হওয়ায় পরবর্তীতে দেশীয় চা উৎপাদন শুরু হয়,যা ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়।ফলে আসামে বাণিজ্যিকভাবে চা উৎপাদন শুরু হয়ে যায় ব্যাপকভাবে। কিন্তু সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় শ্রমিক সংকট।একে তো চা বাগানের কাজ শ্রমসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ, তার উপর বন্য হিংস্র জীব-জন্তুর উৎপাত।তাই স্হানীয় শ্রমিকরা চা বাগানে কাজ করতে চাইলো না। সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো শ্রমিক আনা হবে আসামের বাহিরে থেকে। সাহেবরা দালালদের মাধ্যমে ভুলিয়ে ভালিয়ে মূলত বিহারের ছোট্ট নাগপুর থেকে নিয়ে এলো কুলিদের,এর বাহিরে উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ, অন্ধপ্রদেশ থেকেও আনা হলো তাদের। এখানে আসার পরে তারা টের পেলো যে ভুলিয়ে ভালিয়ে মরণফাঁদে এনে ফেলা হয়েছে তাদের। চাবুকের নীচে দাসশ্রম দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই তাদের। এই দাসশ্রম দিতে গিয়ে প্রথম তিন বছরের মধ্যে আসামে যে ৮৪৯১৫ জন মজুর আমদানি করা হয়েছিল তার ভিতর ৩১৮৭৬ জনই অত্যাচার, নির্যাতন, অনাহার,অর্ধহারে আর মরণ ব্যাধির কবলে পড়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলো। এই কর্ম, ঘর্ম আর রক্তের লাল ইতিহাস, এই বর্বরতার চিহ্ন, এই নিষ্ঠুরতার কাহিনী মজুরেরা ছড়িয়ে দিয়েছিলো ঝুমুর গানের মাধ্যমে।এ শুধু গান নয় এর প্রতিটি শব্দের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে বঞ্চনার ব্যাথা, নিষ্ঠুরতা আর র্নিমমতার কথা, প্রতারনা আর ফাঁকিবাজির গল্প, অচেনা ভূমিতে অন্যের আনন্দ জোগানোর জন্য নিজেদের রক্ত প্রান ত্যাগের কাহিনী, আছে প্রানান্ত পরিশ্রম আর প্রবল প্রতিপক্ষের কাছে অসহায় এবং হতদরিদ্র মানুষের পরাভব মানার পূর্ণ চিত্রায়ন।
collected
Comments
Post a Comment