Skip to main content

ইসলামের সৌন্দর্য (চতুর্থ পর্ব)


শীতকাল আসার সাথে সাথে সাধারণত জ্বর, শর্দি, কাশি বেড়ে যায়। মুখ তেঁতো হয়ে যায়, খাদ্যে রুচি থাকে না। অসুস্থ কেউ আশেপাশের সবাইকে দেখলে মনে করে- সবাই কী সুখে আছে, আমিই কেবল অসুখে!

মনে করুন, একজন আপনার কাছে এক লক্ষ টাকা পান। আপনি সময়মতো টাকা দিতে পারছেন না, টাকা না দেবার কারণে ঐদিক থেকে তাগদা আসছে, এদিকে আপনি চিন্তায় মরে যাচ্ছেন। আপনার সময় কাটছে, কিন্তু দুশ্চিন্তায়। কোনোভাবে টাকা ফেরত দেবার কোনো উপায় বের করতে পারছেন না। রাতে ঠিকমতো ঘুমও হয় না। হঠাৎ একদিন ঐ পাওনাদার এসে আপনাকে বললো- ‘শীতের সকালে তুমি যদি খালি পায়ে ৫ কিলোমিটার হাঁটো, তাহলে তোমার ঋণের টাকা আমি মাফ করে দেবো। তোমাকে আর টাকা দিতে হবে না’। এরকম একটা অফার পেলে আপনার কেমন লাগবে? হ্যাঁ, শীতের সকালে খালি পায়ে পাঁচ কিলোমিটার হাঁটতে আপনার কষ্ট হবে, কিন্তু এই কষ্টের বিনিময়ে আপনার এক লক্ষ টাকার ঋণ পরিশোধ হবে। এক লক্ষ টাকার কাছে আপনার এই কষ্ট তখন তুচ্ছ মনে হবে। স্বাভাবিকভাবেই আপনি সেই প্রস্তাব মেনে নিবেন সন্তুষ্টচিত্তে। কারণ, কষ্টের মাধ্যমে যে স্বস্তি পাবেন, সেই স্বস্তি আপনাকে কষ্ট ভুলিয়ে দেবে। আমাদের যখন রোগ হয়, আমরা যখন অসুস্থ হই, তখন যদি কেউ আমাদেরকে আকর্ষণীয় কোনো অফার দেয়? সেই অফার পেলেও তো আমাদের রোগের শোক ভুলে যাবার কথা। অসুখকে কল্যাণকর হিশেবে দেখা সম্ভব হবে। জ্বর, শর্দি, কাশি বা যেকোনো বিপর্যয় একজন মুমিনের কাছে কেমন বার্তা নিয়ে আসে? একজন মুমিনের কাছে অসুখের বার্তা সুখময়। ইসলাম তাকে অসুস্থতার মধ্যেও আশাবাদী হতে উৎসাহিত করে। নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: “মুসলমানের উপর যে সকল যাতনা, রোগব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানি আপতিত হয়, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে বিদ্ধ হয়, এসবের দ্বারা আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।” [সহীহ বুখারী: ৫৬৪২] তারমানে অসুখ বা কোনো বিপর্যয় আমাদের গুনাহ মাফের উপলক্ষ হিশেবে হাজির হয়। যে অসুখ আমাদের গুনাহ মাফের উপলক্ষ, সেই অসুখকে কি গালাগাল দেওয়া যায়? সেই অসুখের উপর কি বিরক্ত হওয়া যায়? রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক সাহাবীর নাম ছিলো উম্মে সায়িব (রাদিয়াল্লাহু আনহা)। একবার তিনি ভীষণ অসুস্থ হোন, জ্বরে কাঁপতে থাকেন। এমনকি জ্বরকে গালি দিতে থাকেন। জ্বরের প্রতি তাঁর এমন বিরক্তি দেখে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন: “তুমি জ্বরকে গালি দিও না। কেননা, এটি আদম সন্তানের পাপরাশি মুছে দেয়, যেমনভাবে কামারের চুল্লি লোহার মরিচা দূর করে।” [সহীহ মুসলিম: ২৫৭৫] ইসলাম একজন মুসলিমকে সর্বাবস্থায় পজিটিবিস্ট হতে উৎসাহিত করে। জ্বর হয়েছে? শরীর কাঁটাবিদ্ধ? হাঁটতে গিয়ে পা মচকে গেছে? মাথা ব্যাথায় অস্থির? অসুবিধা কী! এতে তো গুনাহ মাফ হচ্ছে। বিপদ মুসলিমের জীবনে রহমত হয়ে আসে। মুসলিম কোনো অবস্থায় হতাশ থাকতে পারে না। তার সবকিছুই কল্যাণকর। আমরা অসুস্থ হলে অসুস্থতাকে সাদরে বরণ করবো, যথাসাধ্য চিকিৎসা করবো (চিকিৎসা করানো নবিজীর সুন্নাত); কিন্তু অসুস্থ হবার জন্য প্রার্থনা করবো না। ইসলামের সৌন্দর্য (চতুর্থ পর্ব) আরিফুল ইসলাম

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...