Skip to main content

'শয়তানের শ্বাস'

 🔴সত্য মিথ্যা জানি না, তবে বিপদে পড়বার আগেই সতর্ক হতে সমস্যা নেই...


ঢাকার রাস্তায় ভয়ংকর মাইন্ড কন্ট্রোল ড্রাগ 'ডেভিলস ব্রেথ' বা 'শয়তানের শ্বাস' বা স্কোপোলামিন (Scopolamine) ছিনতাইকারী, পকেটমার ও মলম পার্টির পর বাজারে নতুন এসেছে 'ডেভিলস ব্রেথ' (Devil’s Breath) বা 'শয়তানের শ্বাস' নামে পরিচিত স্কোপোলামিন নামক ড্রাগ। যা ব্যবহার করে যাত্রী ও পথচারীদের সর্বস্ব লুটে নেয় এক চতুর পার্টি। ঘটনা-১ রাস্তায় হাটছিলেন রহমান সাহেব, হঠাৎ খুব পরিচিত ভঙ্গিতে একজন ডাক দিল। যেন রহমান সাহেব কে চিনে ভাল করে! রহমান সাহেব কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত! পরে লোকটা জাস্ট হ্যান্ডশেক করল, এরপর বেশ কিছু সময় গল্প করল। এরপর উনাকে বলল "ভাই, মানিব্যাগ আর মোবাইলটা দিয়ে দিন'। রহমান সাহেব বিনাবাক্যে এবং বিনাদ্বিধায় পকেট থেকে বের করে পুরো মাসের বেতন সহ মোবাইল দিয়ে দিলেন। কেন দিলেন উনি নিজেই জানেন না! উনি এখনো মোহগ্রস্ত! ঘটনা-২ রাস্তায় একটা লোক এক্সকিউজ মি বলে নীলা কে ডাক দিল, নীলা ঘুরে তাকাল। এরপর লোকটা জাস্ট মুখের উপর ফু দিল, বলল গাড়ীতে উঠ। নীলা গাড়ীতে উঠল, লোকটা তাকে একটা বাসায় নিয়ে গেল। এরপর কয়জন মিলে ওর সাথে শারিরীক সম্পর্ক করল! নীলা তেমন কোন উচ্চ বাচ্চ করে নি। এরপর ওকে জাস্ট রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে গেল। নীলা আবছা আবছা মনে করতে পারে ওর সাথে কি হয়েছে, কিন্তু বাসার ঠিকানা বা লোকগুলোর চেহারা মনে করতে পারছে না। নীলার ঘোর এখনো কাটে নি সে শারিরীক বা মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত। কীভাবে কাজ করে 'ডেভিল ব্রেথ' পার্টি? স্কোপোলামিন মাদক ব্যাবহারের কারণে ছিনতাইকারীদের মতো ছুরি, চাকু বহন করা লাগে না এই পার্টির সদস্যদের। এমনকি পকেটমারদের মত ধরা পড়া বা গণপিটুনি খাওয়ার রিস্কও থাকে না তাদের। স্কোপোলামিনের ব্যবহার তাদেরকে এমন সব ঝুট-ঝামেলা থেকে মুক্তি দিয়ে শহরের সবচেয়ে সফল হাইজ্যাকারে পরিণত করেছে। প্রথমে এই পার্টির এক সদস্য তার টার্গেটেড লোকের কাছে যেয়ে একটি কাগজ বা মোবাইলের মেসেজ দেখিয়ে বলবে আন্টি/ভাই/আপু এই ঠিকানাটা কোথায়? কিংবা কোন এক রিকশাওয়ালা সদস্য একটি প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে বলবে 'বাবা, এই প্রেসক্রিপশনের ওষুধের নামটা কী? কোথায় পাওয়া যাবে?' মানবিক বোধ থেকে তাদের সাহায্য করতে গেলেন মানেই তাদের ফাঁদে পা দিলেন। এরা ইচ্ছা করেই কাগজে লেখা ছোট করে থাকে যাতে তাদের 'সম্ভাব্য মুরগী' মোবাইল বা কাগজটা নাক ও মুখের কাছাকাছি নিয়ে পড়তে বাধ্য হয়। তাদের দেওয়া কাগজ, ফোন বা অন্যকিছু আপনি নাক, চোখমুখের কাছাকাছি ধরার মাধ্যমে নিজে নিজেই স্কোপোলামিন গ্রহণ করে ফেলবেন। এরপর আপনি হয়ত ঠিকানা খুঁজতে যাবেন বা ঔষধের নাম, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। আপনার মাথা ঝিমঝিম লাগবে এবং আপনি বুঝবেন না আপনি কী করছেন! আপনি নিজ থেকেই আপনার কাছে থাকা টাকাপয়সা, গহনা, মোবাইল সহ সব দিয়ে দিবেন আপনার সামনে থাকা ভয়ংকর 'ডেভিলস ব্রেথ' পার্টির সেই কুচক্রী সদস্যের হাতে। এই পার্টি প্রধানত জুয়েলারি ও ব্যাংকের আশেপাশে ঘোরাফেরা করে এবং অবস্থাসম্পন্ন পথচারী নারীদের টার্গেট করে। এই ঘটনা অনেকেই ফেস করেছেন কিংবা ফেসবুকে বা বন্ধু বান্ধবের কাছ থেকে শুনেছেন। অনেকেই সর্বস্ব খুইয়েছেন। কয়েক মুহুর্তের মধ্যে 'চিন্তাশক্তি অকার্যকর হয়ে হিপনোটাইজড হওয়া এবং ভিকটিমের নিজ থেকেই সব দিয়ে দেওয়া' কীভাবে সম্ভব? এই পাউডার ভিকটিমের উপর খাবারের মাধ্যমে, মুখের উপর ফু দিয়ে (যা বেশি করা হয়) অথবা হ্যান্ডশেকের সময় হাতে একটা পিন ফুটিয়ে প্রয়োগ করা হয়। এটা প্রথমে আক্রান্ত ব্যাক্তির মস্তিস্কের প্রাথমিক স্মৃতি বা ইনিশিয়াল স্টেইজ অব মেমোরিকে ব্লক করে দেয়। যার ফলে সে এ্যাটাকারকে ভালভাবে চিনতে পারে না। সেই সাথে ব্রেইনের Amigdale নামক অংশকে আক্রান্ত করে যা তার মস্তিস্কের চিন্তা করার অংশকে ব্লক করে দেয়! যার ফলে তার চিন্তা করার ক্ষমতা চলে যায়, এবং বাহির থেকে আক্রমন আসলে তার প্রতি যে স্বভাবগত প্রতিক্রিয়া দেখানোর কথা সেটা আর পারে না। ভিক্টিমের আচরন হয়ে যায় সাবমিসিভ, বা বশীভূত! তখন তাকে যে কমান্ড দেয়া হয় সে তাই মানে! নাসা তাদের এ্যাস্ট্রোনাটদের উপর ০.৩৩ মিলিগ্রাম ইউজ করে, তাদের মোশন সিকনেস কাটানোর জন্য। আর যেকোন সাধারণ মানুষের উপর যদি এর ৫-৭ মিলিগ্রাম ইউজ করা হয় তবে সে হয়ে যাবে এমন হেল্পলেস জম্বি। তাকে দিয়ে যা ইচ্ছা করানো যাবে! আর যদি ১০ মিলিগ্রাম বা তার বেশি হয় তবে রোগী কোমায় চলে যাবে এবং সেখান থেকে মারা যেতে পারে। তাই রাস্তাঘাট, জুয়েলারি, ব্যাংক, যেকোনো শপিং সেন্টার থেকে বের হবার সময় এই ঘটনাগুলো মনে রাখুন, সতর্ক থাকুন। সতর্ক থাকুন যখন আপনি রিক্সার যাত্রী তখনও! বৈশ্বিক এয়ার ইনডেক্সের টপলিস্টে থাকা বসবাসের অযোগ্য দূষিত এই ধুলাময় শহরে ডাস্ট অ্যালার্জি, ফুসফুসের ক্ষতি, মলম পার্টি, ক্লোরোফর্ম ও ডেভিলস ব্রেথ পার্টিসহ অজানা সব বিপদ থেকে রক্ষা পেতে "মাস্ক" ব্যবহার করুন। এর সুবিধা হলো মাস্ক পরা থাকলে এই সব দুষ্কৃতিকারীরা আপনাকে সহজে টার্গেট করবে না এবং টার্গেট করলেও মাস্ক আপনাকে ওয়ান স্টেপ প্রোটেকশন দিবে। এই রকম ভিক্টিম কেউ হলে তাকে পীর ফকির বাদ দিয়ে, সোজা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন। নিজেকেই সাবধান হতে হবে, নির্জন যায়গায় কেউ ডাকলে যাওয়া যাবে না। অপরিচিত কেউ বেশি ঘনিষ্ঠ বা পরিচিত আচরণ করলে তার পরিচয় জিজ্ঞেস করে শিওর হয়ে নিবেন এবং তার থেকে একটা নির্দিষ্ট দুরুত্ব বজায় রাখবেন। যার তার সাথে হ্যান্ডশেক করবেন না।

collected

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...