Skip to main content

ডেঙ্গু জ্বর

বর্ষা মৌসুমের আতঙ্কের নাম ডেঙ্গু জ্বর। বাচ্চার জ্বর এলেই বাবা-মা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। যে, বাচ্চার মনে হয় ডেঙ্গু হয়েছে। এখনই হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। কিন্তু ডেঙ্গু জ্বর হলেই যে সব সময় হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়ে না, তা কিন্তু সবাই জানি না। জ্বর- পরবর্তী সময়টি যে বেশি বিপজ্জনক এ বিষটি অনেক বাবা-মায়েরই জানা নেই। এজন্য দেখা যায় জ্বর থাকা অবস্থায় বাবা-মা বাচ্চার যতটা যত্ন নিয়ে থাকেন, জ্বর- পরবর্তী সময়ে তা অনেকটাই কমিয়ে দেন এই ভেব্ব যে, বাচ্চা মনে হয় সুস্থ হয়ে গেছে। আর তখন-ই ঘটে বিপত্তি। বাচ্চার অবস্থা খুব দ্রুত খারাপ হয়ে যায়। এমনকি মারাও যেতে পারে।

◼️ লক্ষণ উচ্চমাত্রার জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, শরীরে র‍্যাশ ওঠা, রক্তপাত হওয়া, বিশেষ করে ব্রাশ করার সময় দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া এবং শরীর ফুলে যাওয়া। ◼️ করণীয় - ডেঙ্গু একটি ভাইরাল জ্বর। সুতরাং অন্যান্য ভাইরাল জ্বরের মতো সিম্পটোমেটিক চিকিৎসা দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। - জ্বরের জন্য বাচ্চাকে প্যারাসিটামল ওষুধ দিতে হবে। বারবার গা স্পঞ্জ করে দিতে হবে। প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো অ্যাসপিরিন- জাতীয় ওষুধ দেওয়া যাবে না। - বমি হলে অন্টিইমেটিক সিরাপ দিতে হবে। - শরীর চুলকানি হলে অ্যান্টিহিস্টামিন সিরাপ দিতে হবে। - বাচ্চাকে প্রচুর পরিমাণে তরলজাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে। - ভিটামিন-সি- জাতীয় খাবার যেমন লেবু, মাল্টা এবং অন্যান্য ফলের রস খাওয়াতে হবে। - রক্তের সিবিসি এবং ডেঙ্গু পরীক্ষা করে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। ◼️ জ্বর-পরবর্তী করণীয় - ডেঙ্গু আক্রান্ত বাচ্চার জ্বর-পরবর্তী সময়টি সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক। বেশির ভাগ শিশুর ক্ষেত্রেই এ সময়টিতে খারাপ লক্ষণ প্রকাশ পায়। - জ্বর-পরবর্তী ৭২ ঘন্টা শিশুর জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক। এ সময় শিশুর শরীর থেকে এলবুমিন নামক প্রোটিন কমে গিয়ে শরীর ফুলে যায়। প্লাটিলেট কমে গিয়ে রক্তপাত হয়। হিমোগ্লোবিন কমে গিয়ে হার্ট ফেইলিউর হয়। এছাড়া পানির পরিমাণ কমে গিয়ে বাচ্চা শকে চলে যায়। - এ সময় বাচ্চার অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন হয়। বাচ্চাকে অধিক পরিমাণে তরল খাবার খাওয়াতে হয়। প্রতিদিন কমপক্ষে ১.৫ থেকে ২ লিটার তরল খাবার খাওয়াতে হয়। বাচ্চাকে খাবার স্যালাইন, দুধ, স্যুপ, ফলের রস প্রচুর পরিমাণে খাওয়াতে হয়। - প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন খাওয়াতে হয়। বাচ্চার প্রতিদিনের খাবারে দুধ, ডিম, মাছ, মাংস রাখতে হয়। - বাচ্চাকে যেন মশা না কামড়ায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হয়। - জ্বর ভালো হওয়ার দিন অবশ্যই একটি সিবিসি করে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হয়। ◼️ কখন হাসপাতালে ভর্তি করবেন? বাচ্চা অতিরিক্ত বমি করলে, শরীর ফুলে গেলে, খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিলে, খিঁচুনি হলে, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে, রক্তপাত হলে। ----- Dr. Maria Kibtiar MBBS, MD (Pediatrics) Consultant, LifeSpring

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...