Skip to main content

জুলিয়ান ড্রোলোন

 খ্রিস্টান থেকে বৌদ্ধ থেকে মুসলিম!


বিশ্বের সবচেয়ে ইসলামবিদ্বেষী দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্স অন্যতম। জুলিয়ান ড্রোলোনের ভাষায়- “এমন একটা দিনও যাবেনা যেদিন ফ্রান্সের রেডিও, টেলিভিশন ইসলাম সম্পর্কে খারাপ কিছু না প্রচার করে। আপনি এক ঘন্টা রেডিও খুলে বসুন, ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু না কিছু শুনতেই পাবেন আপনি”। নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টার জুলিয়ান ড্রোলেনের জন্ম ফ্রান্সে। পৃথিবীর ১১ তম ধর্মহীন দেশে জন্ম নিয়েও জুলিয়ান স্বপ্ন দেখতেন একদিন খ্রিস্টান পাদ্রী হবেন। আদতে তিনি ছোটবেলা থেকেই অনেকটা স্পিরিচুয়াল বা আধ্যাত্মিক মননের মানুষ ছিলেন। এক পর্যায়ে খ্রিস্টান মায়ের পরামর্শেই তিনি বৌদ্ধ হয়ে যান। তার মা নিজেকে অনেক লিবারেল মনে করতেন। যদিও ইসলাম ছিলো সর্বশেষ ধর্ম যেটা সম্পর্কে জুলিয়ান খোঁজ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাও, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের আজানের ধ্বনি শুনে তার মনে হতো এটা যেন তার কাছে কারো আহ্বান। তিনি সেই অনুভূতি এড়িয়ে যেতেন। অবশ্য জুলিয়ান পরবর্তীতে ফিলিপাইনে গিয়ে আবার খ্রিষ্টান ধর্মের দিকে ঝুঁকে যান। একবার তিনি মিশরে যান। সেখানে ট্যাক্সিতে উঠে তিনি এক ধরণের গান শুনতে পান। তিনি ড্রাইভারকে বলেন, “তোমার এই গানটা তো খুব সুন্দর। এটা যেন আমার অন্তরকে ঠান্ডা করে দিচ্ছে”। “স্যার! এটা কোনো গান না। এটা কুরআন”। সেই ড্রাইভার জুলিয়ানকে কুরআন পড়ে দেখার ব্যাপারে শপথ করায়! ‘পিস টিভি’ থেকে জুলিয়ান অনেক প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং তিনি এক সময় তার কালেমা পাঠ করেন নিজের কম্পিউটারের সামনে বসে, পিস টিভি দেখতে দেখতে। তিনি যখন নিজের ইসলাম গ্রহণের কথা তার মাকে বলেন তখন তার ‘লিবারেল’ মা তাকে বলে, এটা ছিলো সবচেয়ে বাজে আর নিকৃষ্ট একটা খবর। মায়ের সাথে নিজের সম্পর্ক জুলিয়ান হারান পুরো এক বছরের জন্য। জুলিয়ান গানও লিখতেন। তিনি আলোর সন্ধানে টানা ৪০ দিন ধরে ১০০০ কিলো হেটেছেন নিজের গিটার নিয়ে। কিন্তু মুসলিম হওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করেন 'মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি শয়তানি বার্তা গুলো দিয়ে পূর্ণ'। বর্তমান বিশ্বের অবস্থা নিয়ে তার বক্তব্য শুনুন- “আমরা বর্তমানে করোনা ভাইরাস নিয়ে অনেক কথাবার্তা বলছি। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভাইরাস তো শির্ক।…কিন্তু শির্ক থেকে অমুসলিমদের বাঁচাতে তেমন কোনো তোড়জোড় দেখা যায় না। একজন মিডিয়া কর্মী হিসেবে তিনি যে বিশাল কাজটা করছেন সেটা হলো ২৫ টা ভিন্ন দেশের ৫০ জন নওমুসলিমের জীবনী নিয়ে একটা সিরিজ করছেন তার ‘Halis Media’ চ্যানেলে। তিনি স্বপ্ন দেখেন তার মৃত্যুর পূর্বেই মুসলিম বিশ্ব একতাবদ্ধ হবে। "আমার কাছে সবচেয়ে বড়ো দূর্যোগ হলো প্রতিদিন অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' ছাড়া"। - জুলিয়ান ড্রোলোন


*********************************************************************************************************

সনাতন ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলো জিদ্দার একজন লেবার। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো “কেন তুমি ইসলাম গ্রহণ করলে?”

সে বলল, “আমি যখন সৌদিতে আসবো তখন আমার নাম পরিবর্তন করে পাসপোর্ট ভিসা সব মুসলমানের নাম দিয়ে করলাম। মক্কার মসজিদে অমুসলিমদের ঢুকা নিষেধ, কিন্তু আমার ঢুকার তওফিক হয়েছে। একদিন আমি রাস্তা ঝাড়ু দিচ্ছিলাম তখন আযান হলো, নামাযে গেলাম। নামাযে গিয়ে এক ধনী লোকের সাথে দাড়ালাম। ঠিক সেই মূহুর্তে আমার পাশে এসে দাড়ালো এক আতরের ব্যবসায়ি। যার এক ফোঁটা আতর কিনতে আমার মতো লেবারের ২ বছরের কামাই দরকার। সেই লোকটি আমার সাথে কাঁধে কাঁধ পায়ে পা লাগিয়ে দাঁড়ালো। আমি রবিদাস বংশের লোক। সবচেয়ে নিচু শ্রেণি হয়ে আমি হয়েছি নিন্দিত। আমার ধর্মে ১২ জাতের লোক আছে, এদের মধ্যে কারো কারো ছায়া পড়লেও গোসল করতে হয়। কিন্তু মক্কার মসজিদে নামায পড়ে বুঝলাম আল্লাহর মসজিদে কারও রাজত্ব চলে না.. এজন্য আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি.. 🌼🌺 আলহামদুলিল্লাহ☺️

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...