Skip to main content

বাস্তুচ্যুত

 


বিশ্বব্যাপী তথাকথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে কমপক্ষে ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে #আমেরিকা

২০ বছর আগে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকার উপর কথিত সন্ত্রাসী হামলার অজুহাতে বিশ্বব্যাপী তথাকথিত "সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের" ঘোষণা দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিরপরাধ মানুষদের উপর সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করে। ৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ সালে আমেরিকার ব্রাউন ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকাশিত 'Cost of War project' শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০১ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত আমেরিকা অন্তত আটটি যুদ্ধ প্রত্যক্ষ পরিচালনা করেছে অথবা পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছে। তাতে অন্তত ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। আমেরিকার এই আটটি যুদ্ধই ছিল আটটি মুসলিম প্রধান দেশের বিরুদ্ধে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে বাদ রেখে বলতে গেলে ১৯০০ সালের পর থেকে যেকোনও যুদ্ধ বা বিপর্যয়ের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষদের সংখ্যা এটিই সর্বোচ্চ। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বাস্তুচ্যুত হওয়া শীর্ষ দেশগুলির মধ্যে রয়েছে #আফগানিস্তান (৫.৩ মিলিয়ন), #ইরাক (৯.২ মিলিয়ন), #পাকিস্তান (৩.৭ মিলিয়ন), #ইয়েমেন (৪.৪ মিলিয়ন), #সোমালিয়া (৪.২ মিলিয়ন), #ফিলিপাইন (১.৭ মিলিয়ন), #লিবিয়া (১.২ মিলিয়ন) এবং #সিরিয়া ( ৭.১ মিলিয়ন)। গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মোটামুটি ধারণা থেকে এই সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা ৫ কোটি ৯০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
************************************************************

এক উপজাতির ইসলাম গ্রহণ


আমি সুপ্রাচীন কোনো সময়ের কথা বলছি না। আমি বলছি একবিংশ শতাব্দীর কথা। বলছি ২০২০ সালের কথা। হিম্বা জাতিগোষ্ঠীর প্রধান বসবাস নামিবিয়ায়। আমাদের প্রবাহমান বর্তমান সভ্যতা থেকে তারা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। আপনি যদি তাদের অঞ্চলে যান, তাদের সাথে মিশেন, তাহলে আপনার মনে হবে আপনি কয়েক হাজার বছর আগের কোনো জায়গায় এসে পড়েছেন। তারা যে সভ্যতার ছোঁয়া থেকে কতোটা বিচ্ছিন্ন সেটা বোঝার জন্য একটা উদাহরণই যথেষ্ট। এই সময়ে এসেও তাদের দেহের অধিকাংশই নগ্ন থাকে। অনেকেই সম্পূর্ণ উলঙ্গ থাকে। এ ধরণের নৃগোষ্ঠীদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ সীমিত ও অপর্যাপ্ত। দাওয়াহ সংগঠন ‘IERA’ এর পক্ষ থেকে হিম্বাদের একটি গ্রামে তাওহীদের বাণী, শান্তির বাণী প্রচারের উদ্যোগ নেয়া হয়। ‘IERA’ এর পক্ষ থেকে আব্দুর রহীম গ্রিন, আদনান রশীদ সহ আরো বেশ কয়েকজন তাদের গ্রামে যায়। গ্রামে গিয়ে দোভাষীর সাহায্যে তারা তাদেরকে ইসলামের মৌলিক বার্তা দেয়ার চেষ্টা করেন। তাদের গোত্র প্রধান তাদের স্বাধীনতা দিয়ে দেয়- “ তোমরা যদি বোঝো এবং বিশ্বাস করো আমাদের অতিথিরা যা বলছেন সেটা সত্য, তাহলে তা গ্রহণ করতে দ্বিধাবোধ করো না”। পরবর্তীতে দেখা যায়, গ্রামের সবাই, শিশু থেকে বৃদ্ধ এমনকি স্বয়ং গোত্র প্রধানকেও ইসলামের বাণী এতোটাই আকর্ষণ করে যে তারা সবাই সাথে সাথেই তা কবুল করে নেয়। বস্তুত তাদের ফিতরাত ছিলো স্বচ্ছ ও কলঙ্কহীন। এভাবেই প্রত্যন্ত এক অঞ্চলের মানুষ যারা আজও কাদামাটি দিয়ে ধর বানায়, তাদের কুটিরে পৌঁছে গেলো আল্লাহর বাণীর মশাল। রাসূল (সা) আমাদের জানিয়ে গেছেন, কোনো মাটির ঘরও ইসলামের বাণী থেকে বঞ্চিত হবে না। হতে পারে এটা সেটারই একটা ধাপ।

source-md rehad sarker/youtube

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...