Skip to main content

মৃত্যুর গল্প বদলে দিলো জীবন

 মৃত্যুর গল্প বদলে দিলো জীবন

মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়েও ‘The Deen Show’ এর প্রতিষ্ঠাতা এডি রেডজভিকের জীবনযাপন ছিলো একেবারেই গতানুগতিক আট-দশজন মানুষের মতো যাদের কাছে ধর্ম ছিলো নিতান্তই সেকেলে ব্যাপার। উন্মত্ত জীবনযাপন করতে থাকা এডির পথযাত্রা কে ঘুরিয়ে দিলো একটা মাত্র গল্প। একদিন এডির বোন তাকে একটা গল্প বলে। গল্পটা ছিলো একটা কবরের। এক ছেলে তার মৃত মাকে দাফন করতে গিয়ে কিছু জরুরি কাগজ কবরের ভিতরে পড়ে যায়। বাসায় চলে যাওয়ার পর তার কাগজের কথা মনে আসলে সে সেটা খুঁজতে কবরে যায়। কবর খুড়তে গিয়ে সে চমকে যায়। কবরের ভিতরের দৃশ্যটা ছিলো ভয়াবহ। এডি এই গল্পটা তার এক আঙ্কেল কে বলে। তার আঙ্কেল তখন কিছু না বলে তাকে ‘জীবন, মৃত্যু ও আখিরাত’ নামে একটা বই দেন। এডি দুই তিনদিনের ভেতর বইটা শেষ করে এবং আঙ্কেলকে জানায় বইটা পড়ে সে ভয় পেয়েছে। আরেকবার এডি একটা লিফটে আটকে যায়। সেই সময় তিনি ভাবেন, এই লিফটে কিছুক্ষণের জন্য আটকে থেকেই মানুষ কতোটা ভয় পায়, তাহলে সেই কবরে আমাদের কি হবে? এভাবে জীবন-দর্শন বদলে যায় এডির। এডি শুধু নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত না থেকে তার পরিবারকেও দাওয়াত দেওয়া শুরু করেন। একদিন এডি তার বাবাকে হুট করে গিয়ে বলে, “চলো বাবা, ফজরের নামাজে যাই”। এডির বাবার কাছে এটা ছিলো একটা মিরাকেল! এমনকি তারা সেদিন কাছের মসজিদে না গিয়ে একটা দূরের মসজিদে যায়, যাতে বেশি সওয়াব হয়। তার বাবা, যিনি আগে একটা নাইট ক্লাবের মালিক ছিলেন, এখন তিনি বিশাল এক দাড়ির মালিক। এডি এখন তার বাবার ব্যক্তিগত শায়েখ! তার বাবার অনুভূতি শুনুন, “আমি এই পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী আর সবচেয়ে সুখী মানুষ। আল্লাহর কসম, আমার এটাই মনে হয়”। এডি সহ আরো কয়েকজন একবার এক শায়েখের সাথে বসে হজ্জ্ব নিয়ে আলাপ করছিলেন। সেই আলাপটা তারা ভিডিওতে রেকর্ডও করেন। শায়েখ এই ভিডিও করার ধারণাটা পছন্দ করন এবং এভাবেই শুরু হয় ‘The Deen Show’ । এখন পর্যন্ত (২০১৬ সাল) তারা ৫০০ টিরও বেশি পর্ব সঞ্চালন করেছেন। এডির সবচেয়ে প্রিয় আয়াতটা উল্লেখ করে এই লেখাটা শেষ করি। “আর দুনিয়ার জীবন খেল-তামাশা ছাড়া কিছু না। আর যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য আখিরাতের আবাসই উত্তম। অতএব তোমরা কি বুঝবে না?” [সুরা আনআম, আয়াত ৩২]




Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...