Skip to main content

❐ স্বামীর মন জয় করার কিছু উপায়

 ❐ স্বামীর মন জয় করার কিছু উপায়—


১. বাহির থেকে স্বামী যখন ঘরে ফিরবে হাসিমুখে তাকে বরণ করে নিন। তার হাতের ব্যাগটা নিজের হাতে নিন। একটু ফ্রেশ হতে, একটু বিশ্রাম নিতে তাকে সুযোগ করে দিন। সম্ভব হলে লেবু ইত্যাদির শরবত বা ঠান্ডা পানি পরিবেশন করুন। মনে রাখবেন– দিনশেষে মানুষটা যখন আপনার কাছে ফিরে আসে, আপনাকে মলিনমুখে দেখতে অবশ্যই পছন্দ করবে না! সারাদিনের কার্যবিবরণী, ওটা আনো নি কেন এসবকিছু তখনই বলতে যাবেন না। পর্যাপ্ত বিশ্রামের পর যা ফিরিস্তি তুলে ধরুন। ২. সবসময় পরিপাটি ও সেজেগুজে থাকার চেষ্টা করুন। রাস্তায় কোন সাজুগুজুওয়ালী চোখে পড়লে আপনার স্বামী যেনো না ভাবে– কই আমার বউটা তো কখনো এরকম করে সাজে না! বরং সে যেন দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং এটা ভাবে যে আমার ঘরে তো আমার বউ রয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। ৩. স্বামীর আয় যদি স্বল্প হয়, তবে এতেই সন্তুষ্ট থাকুন। অভিযোগ করবেন না। দুনিয়াটা তো মাত্র অল্প দিনের প্রিয় বোন! কী করবেন এতো ঐশ্বর্য্য দিয়ে। এটা ভাববেন, স্বামী তো রুজি করে আপনার জন্যই। ইচ্ছে করে কোনো স্বামীই বউকে ভাত-কাপড়ের কষ্টে রাখতে চায় না। ৪. বাপের বাড়িতে বা বান্ধবীদের কাছে সবসময় স্বামীর ভালোটা বলবেন। কখনো গীবত করবেন না। সবসময় আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করুন। এরচেয়ে খারাপ মানুষও তো আপনার স্বামী হতে পারতো! ৫. একেক সময় একেক রকম সুস্বাদু খাবার খাইয়ে স্বামীকে বাগিয়ে নিন! সব পুরুষই একটু ভোজনবিলাসী হয়। আর সেটা যদি স্ত্রীর হাতের রান্না হয় তাহলে তো কথাই নেই! ৬. আপনি তাকে দ্বীনদার হিসেবে গড়ে তুলুন। আপনিই পারবেন! তাকে নামাজে যেতে উদ্বুদ্ধ করুন। দাড়ি না রাখলে অভিমান করুন। তাহাজ্জুদ বা ফজরের সময় না জাগলে পানি ছিটিয়ে দিন। এরকম আরকি! ৭. একসাথে দু'জন মানুষ থাকলে ঝগড়া হওয়া একটা সিম্পল বিষয়। কিন্তু কখনোই তার সাথে উচ্চবাচ্য করবেন না। গলা উচিয়ে বা মুখের উপর আঙ্গুল তুলে কথা বলবেন না। ভুল যদি তারও হয়, আপনিই স্যরি বলুন। দেখবেন মানুষটা তখন তুলোর মত নরম হয়ে যাবে আপনার সামনে। আপনার জন্য তার ভিতরে একটা শ্রদ্ধাবোধও তৈরি হবে। তার গর্ব হবে আপনাকে স্ত্রী হিসেবে পেয়ে। প্রিয় বোন আর কী চাই আপনার! আপনার স্বামীর সন্তুষ্টিই তো আপনার স্বর্গ! ৮. বিছানায় শুয়ে সারাদিনের ফিরিস্তিই শুধু তুলে ধরবেন না। মাঝেমধ্যে খোশগল্প করুন। ধাঁধা জিজ্ঞেস করুন। জোকস শুনান। বেচারা স্বামীর মন খারাপ থাকলে ভালো হয়ে যাবে। সারাদিন অপেক্ষায় থাকবে এই মুহূর্তটার! মাথা টিপে দিন। চুলে আঙুল চুবিয়ে টেনে দিন। এতে পুরুষরা খুউব আরাম পায়। গালটাও একটু টেনে দিয়েন... হিহিহি ৯. শাশুড়ীকে মায়ের মতোই শ্রদ্ধা করুন। তার সেবা করাটাকে পুণ্য মনে করুন। কখনো রাগের মাথায় শাশুড়ী যদি কিছু বলেও ফেলে প্রতিউত্তর করতে যাবেন না। কখনই শাশুড়ীর বিরুদ্ধে স্বামীকে 'কানপড়া' দিবেন না। মোদ্দাকথা স্বামীফ্যামিলির প্রতিটি সদস্যকে আপন করে নিন। ১০. মাঝেমধ্যে স্বামীকে গিফট করুন। স্বামীর থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার উপায় কিংবা নিঞ্জা টেকনিক এটা! ১১. স্বামীর সম্পদের হেফাজত করুন। কখনোই কোনোকিছুর অপচয় করবেন না। একটু ভাববেন, টাকা রুজি করতে আপনার স্বামীর মাথার ঘাম পায়ে পড়েছে! আপনার স্বামী যদি স্বাবলম্বী হয় আপনার কোনো ইচ্ছেই ইনশাআল্লাহ অপূর্ণ থাকবে না। ১২. তার প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ করুন। মাঝেমধ্যে মেসেজ লিখুন তাকে। শেষে ছোট্ট করে লিখে দিন– ওগো আমি কিন্তু তোমাকে একটুও ভালোবাসি না! আমি আপনাকে ভালোবাসি এটা বলার চেয়ে ওইটার মধ্যে ভালোবাসাটা বেশি লুকিয়ে থাকে! ১৩. রাতে খাবার নিয়ে স্বামীর জন্য অপেক্ষা করুন। একা খাবেন না। তাকে খাইয়ে দিন। স্ত্রী খাইয়ে দেবে, সব স্বামীদের থাকে এটা পরম চাওয়া! ১৪. স্বামীর সামনে কখনোই কোনো মেয়ের প্রশংসা করবেন না। আল্লাহ না করুন এতে হয়তো তার মনে মেয়েটির ব্যাপারে আগ্রহ জন্মাতে পারে, যা আপনার সুখের সংসারে আগুন ধরিয়ে দিবে! ১৫. স্বামী অপছন্দ করে এমন মানুষের সাথে কথা বলবেন না। অপছন্দনীয় কাজ সবসময় এড়িয়ে চলবেন। স্বামীর সামনে স্মার্টফোনে ডুবে থাকবেন না। আপনার ব্যক্তিগত কোনোকিছুই স্বামীর থেকে গোপন রাখবেন না। সবসময় সন্দেহের ঊর্ধ্বে রাখবেন নিজেকে!

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...