বর্তমানে করোনা ভাইরাসের সাথে মোকাবিলা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের জন্য। অনেকেরই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হবার ১৪ থেকে ২১ দিন পরও নানান ধরনের জটিলতা দেখা দিয়ে থাকে যাকে আমরা পোষ্ট কভিড সিন্ড্রোম বলে থাকি। করোনা পরবর্তী সময়ে দূর্বলতা বোধ করা,ঘুমের সমস্যা,মাথা ব্যাথা,বমি বমি ভাব,চুল পড়া,শ্বাসকষ্ট, পিঠে বা বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা,পেটের সমস্যা,হার্ট এবং মস্তিষ্কের নানান ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।কাজেই এই সময় পর্যাপ্ত বিশ্রামের পাশাপাশি প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাস। এই সময় পর্যাপ্ত প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন দুধ,ডিম,মাছ,মাংস,ডাল এসব নিশ্চিত করতে হবে। কারন এই প্রোটিন একদিকে যেমন এন্টিবডি তৈরিতে সাহায্য করবে অন্যদিকে শরীর পুনর্গঠনে সাহায্য করে থাকে। পর্যাপ্ত পরিমানে পানি ও পানি জাতীয় খাবার গ্রহন করতে হবে। যেন শরীর ড্রিহাইড্রেট না হয়ে যায়। করোনা পরবর্তী সময়ে পিপাসা লাগা,কোষ্ঠকাঠিন্য, চুল পড়ার সমস্যা খুব বেশি দেখা দেয়। দূর্বলতা কমানোর জন্য আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাবার তালিকায় রাখতে হবে।যেমন লাল শাক, কচু শাক,শাপলা শাক,গরুর মাংস,খেজুর,কিশমিস ইত্যাদি। ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন দুধ ও দুধ জাতীয় খাবার,ডিম এসব খাবার তালিকায় নিশ্চিত করতে হবে।সেই সাথে ভিটামিন ডি জন্য প্রতিদিন রোদে দাঁড়াতে হবে। করোনা পরবর্তী জটিলতা কমানোর জন্য জিংক জাতীয় খাবার যেমন বিভিন্ন বীচি জাতীয় খাবার-শিমের বীচি,মিষ্টি কুমড়ার বীচি,কাঁঠালের বীচি ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও ভিটামিন ই যেমন কাঠ বাদাম,চিনা বাদাম,পালংশাক এসব খাবার তালিকায় রাখতে হবে।যা চুল পড়া রোধে সাহায্য করে থাকবে। করোনা পরবর্তীতে ৬০%-৮০% হার্টের সমস্যার সম্ভাবনা থাকে তাই ওমেগা ৩, ওমেগা ৬ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন তৈলাক্ত মাছ,সামুদ্রিক মাছ খাবার তালিকায় রাখতে হবে। #শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা দেখা দেয়া করোনা পরবর্তী সময়ের জন্য খুব স্বাভাবিক। তাই সব সময় কুসুম গরম পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ঠান্ডা খাবার এড়িয়ে চলুন। সেই সাথে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন ব্যয়াম করে যেতে হবে এবং ধুমপান পরিত্যাগ করতে হবে। করোনা পরবর্তী সময়ে পেটের নানান ধরনের সমস্যা যেমন পেটে ব্যথা,গ্যাস্টাইটিস দেখা দিতে পারে।তাই অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার,ভাজাপোড়া ও তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে যেতে হবে। প্রতিদিনের খাবারে হলুদ,টকদই,মধু,কালোজিরা,পেপে রাখতে পারেন যা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে থাকে। ওছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম,বিশ্রাম, এক্সারসাইজ এবং মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে হবে।

Comments
Post a Comment