বোবা ও বধির হয়েও ইসলাম প্রচারক
রেবেকা হোসেনের জন্ম বাংলাদেশে। কিন্তু বেড়ে উঠা আমেরিকায়। রেবেকা জন্মগতভাবেই বোবা ও বধির। আমেরিকা থাকার দরুণ পাশ্চাত্য সভ্যতার হাওয়া তার গায়েও লেগেছিলো। মুসলিম হলেও তার পোশাক, চালচলন, খাবার গড়পড়তা আমেরিকানদের মতই ছিলো। কিন্তু জীবনের একটা মোড়ে এসে তিনি বদলে যান আকস্মিকভাবে। তার উপলব্ধির গল্প নিয়ে তিনি সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের মাধ্যমে জানাচ্ছেন- “আমার ৭ জন বান্ধবী, যাদের জন্ম মুসলিম পরিবারে এবং তারা নিজেরাও মুসলিম, অনেক হতাশার মধ্যে পড়ে গিয়েছিলো। কারণ তারা নিজেদের পরিবারের সাথেই মনের ভাব প্রকাশ করতে পারতো না। তাই তারা আত্মিক শান্তির জন্য মসজিদ ছেড়ে চার্চে যায়। কারণ মসজিদে বোবা ও বধিরদের জন্য কোনো দোভাষী ছিলো না। ভুল ধর্মের মানুষদেরও বোবা-বধিরদের জন্য ব্যবস্থা আছে, কিন্তু আমাদের নেই”। বিশ্বের ৫% মানুষ, সংখ্যায় যারা ৪৩ কোটি, শুনতে পারে না, বধির। তাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার জন্য আমরা কি করছি? রেবেকাদের মতো অল্প কিছু মানুষ যদি এই দায়িত্ব না নিতো, আমি আশংকা করি এই ফরজ কাজ না পালনের জন্য আমাদেরকে জাহান্নামের অঙ্গারে জ্বলতে হতো। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। তিনি তার এক বান্ধবীকে নিয়ে একটা সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেছেন বোবা আর বধির মানুষদের জন্য। তারা বিশ্বের সব মানুষদের একটা সর্বজনীন সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ তৈরির কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন। যেটা মূলত আরবি ভিত্তিক। কথা বলতে পারেন না, কোনো কিছু শুনতে পারেন না; অথচ তার দাওয়াতে এ পর্যন্ত (২০১৬ সাল) ৯ জন ইসলাম গ্রহণ করেছে। আল্লাহু আকবার! এবার নিজের দিকে একটু আঙুল তুলে প্রশ্ন করি, আমরা কি করছি? এতোকিছুর পরও তিনি চেষ্টা করছেন কুরআনের কিছু অংশের তিলাওয়াত করার জন্য। ওনার চেষ্টা সেটা চোখে অশ্রু ধরে রাখার মতো না। আমি জীবনে প্রথমবারের মতো ভুল উচ্চারণের, ভুল ব্যাকরণের এক অশুদ্ধ তিলাওয়াত শুনে কেঁদেছি। কারণ তাঁর হৃদয় তো শুদ্ধ! তাঁর জীবনের আকাঙ্ক্ষা হলো, তিনি আল্লাহর কাছ থেকে আল্লাহর কালামের তিলাওয়াত শুনতে চান! [ছবি ও তথ্য ‘Fahad Alkandari’ ইউটিউব চ্যানেল থেকে গৃহীত]

Comments
Post a Comment