Skip to main content

২০০ মুসলিম খুন করার ইচ্ছা ছিলো যার!

 ২০০ মুসলিম খুন করার ইচ্ছা ছিলো যার!

[দ্বীনে ফেরার গল্প] “একদিন আমি আমার দোকানে দেখলাম দুইজন মহিলা সারা শরীর কালো বোরখায় ঢেকে আমার দোকানে এসেছে। মুসলিম! তাও আবার আমার দোকানে! আমি চিৎকার করে উঠলাম। আমি নিজের ভেতর শক্তি চাচ্ছিলাম, যাতে তাদের ঘাড় দুটো গিয়ে ভেঙে দিতে পারি”। রিচার্ড ম্যাকেনি। এই মানুষটা তার যৌবনে মুসলিমদের সবচেয়ে ঘৃণা করতো। এমনকি উনি এটাও বলেছেন যে, জীবনের একটা পর্যায়ে ইসলামের প্রতি ঘৃণাই তাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলো! অর্থাৎ, তার সকল চিন্তা-চেতনা জুড়ে ছিলো ইসলাম বিদ্বেষ আর মুসলিমদের প্রতি আক্রোশ। ছোটবেলায় অ্যাকশন, মারামারির মুভি দেখে তিনি উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন আর্মিতে যোগ দিতে। আর্মি থেকে রিটায়ার করার পর নিজের এলাকার ইসলামিক সেন্টার বোমা দিয়ে ধ্বংস করে দেয়ার পরিকল্পনা করেন। এজন্য তিনি নিজের হাতে একটা বোমা বানান। তার পরিকল্পনা ছিলো ২০০ জন মানুষ নিহত অথবা আহত হবে। এটাই ছিলো তার কাছে দেশের সেবা। এই পরিকল্পনা যখন তার মাথায়, তখন একটা ঘটনা ঘটে। তার ক্লাস টু তে পড়া মেয়ে যখন তার এক মুসলিম বন্ধুর মায়ের বোরখা পরা পোশাকের বর্ণনা দিচ্ছিলো তখন তিনি খুব উত্তেজিত হয়ে যান। তিনি এমন সব কথা বলা শুরু করেন, যেগুলো তার মেয়ের সামনে বলা একেবারেই উচিত ছিলো না। তার মেয়ের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিলো? সেই মূহুর্তের কথা তিনি বলছেন এভাবে- “সেই সময়টাতে আমার মেয়ে কিছুই বলেনি আমাকে। এটা ছিলো তার মুখের চাহনি, যেটা দেখে মনে হচ্ছিলো আমি এই পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্য মানুষ।…আমি ঠিক করলাম, আমি এই মুসলিমদের একটা শেষ সুযোগ দিবো”। তো, তিনি গিয়ে উপস্থিত হলেন সেই ইসলামিক সেন্টারে যেটা তার গুড়িয়ে দেয়ার ইচ্ছা ছিলো। তিনি সেখান থেকে একটা কুরআন নিয়ে গেলেন। পড়লেন। এমনকি, মুসলিম দের আটকানোর জন্য বিভিন্ন প্রশ্নও করলেন। মজার ব্যপার হলো, সেই লোকেরা তার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিতো। সবসময়। সেদিনের প্রায় দু’মাস পর তিনি সেই ইসলামিক সেন্টারেই ইসলাম গ্রহণ করেন। তার বর্তমান অবস্থা জানতে চান? তিনি এখন সেই ইসলামিক সেন্টারের প্রেসিডেন্ট। “তারা পরিকল্পনা করে, আর আল্লাহও পরিকল্পনা করেন। বস্তুত, আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ পরিকল্পনাকারী।” [সুরা আনফাল, আয়াত ৩০]


Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...