Skip to main content

ওষুধ থেকে বাঁচতে হলে চাই সুস্থ লাইফস্টাইল:

 ওষুধ থেকে বাঁচতে হলে চাই সুস্থ লাইফস্টাইল:

এই পোস্ট দেবার উদ্দেশ্য কিন্তু কাউকে হেয় করার জন্য নয়; তাই কেউ কাউকে হেয় করে কোন কথা না বলে যদি মূল যে বিষয় বোঝাতে চাই সেটা নিয়ে গঠনমূলক কথা বলি তাহলে খুশি হব। এই রোগীটি নিয়মিত ডাক্তার দেখায় নিয়মিত ওষুধ খায় ডাক্তারের পরামর্শ যথেষ্ট মেনে চলে । আজ তার প্রাপ্তি ২৩ ধরনের ওষুধ এবং কিডনী নষ্ট ওনার বর্তমান Serum creatinine ৮.০৮। আপনার যদি যেকোন বড় হাসপাতাল বিশেষ করে BIRDEM এর কিডনী বিভাগে যান সব রোগীকে প্রশ্ন করেন আপনাদের কিডনী কিভাবে নষ্ট হল ওনারা কি উত্তর দিবেন ? ওনারা কি ডাক্তার দেখান নাই ? দেখিয়েছেন ওনারা কি উপদেশ মানেন নাই? মেনেছেন বা মানার চেস্টা করেছেন। যে খাবার ডাক্তারগন খেতে বলেছেন সেভাবেই খেয়েছেন তবুও আজ তাদের ওষুধ বেড়ে ২৩ টি হয়েছে কারো ক্ষেত্রে ৩২ টি পর্যন্ত । দেখবেন প্রেশার নিয়ে গেলে প্রথম একটি ওষুধ পরে দুইটি তিনটি এভাবে বেড়েই চলেছে । ডায়াবেটিস হলেও একই কথা একটি দুইটি তিনটি ওষুধ এরপর ইনসুলিন। চর্বি বাড়লেও বা লিভারে চর্বি জমলেও একই অবস্থা । হার্টের সমস্যা হলেও একই কথা এমনকি পেটের সমস্যা বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হলেও একই। ভুলটা আসলে কার আমাদের রোগীদের, নাকি ডাক্তারদের নাকি আমাদের যারা এভাবে চিকিৎসা করতে শেখাচ্ছেন তাদের। আমি যত বই পড়েছি গাইডলাইন পড়েছি সবখানে বলা আছে Lifestyle disease Lifestyle দিয়ে manage করতে হবে। যাদের Lifestyle ভালো না ওষুধ তাদের সাহায্য করবে না আর আমি দেখেছি Lifestyle ভালো থাকলে ওষুধ লাগে না। আমরা জানি Blood Acidic থাকলে Kidney নষ্ট হয়, আমাদের অবশ্যই Acidic Food avoid করতে হবে আমাদের মেডিকেলে এটা শেখানোই হয়নি কোনগুলো Acidic food কোনগুলো Alkaline Food আমাদের Food drug Interaction শেখানো হয়নি তবে Drug drug interaction শেখানো হয়েছে। আমাদের Insulin Resistance শেখানো হয়নি আমাদের Insulin Index ( কোন খাবার খেলে কত Insulin secretion হয়) শেখানো হয়নি । আমারা Glycemic Index Glycemic load বিবেচনা না করেই রোগীদের শরীরে Sugar বাড়ে এমন খাবার suggest করছি কারন এমনটিই আমাদের শেখানো হয়েছে। আমাদের Autophagy এর Clinical Application শেখানো হয়নি Fasting দিয়ে যে চিকিৎসা করা যায় এটা শেখানো হয়নি এবং New England Journal এ স্পস্ট গাইডলাইন দেয়ার পরও আমরা সেটার ব্যাপারে অন্ধ এবং সেটার আলোকে রোগীকে পরামর্শ দেয়া তো দূরের কথা নিজেই যে একটু পড়ে দেখবো সেটাও দেখছি না। Blood pressure বেশি থাকেল এবং প্রেশারের ওষুধ খেলে উভয়ই kidney নষ্ট করতে ভূমিকা রাখে যেকোন chemical medicine blood কে acidic করে দিতে ভূমিকা রাখে। প্রেশার বাড়ার সাথে খাবারের ভূমিকা আছে এ ব্যাপারে মেডিকেলে আমাদের শেখানো হয়নি যেসব খাবারের Insulin Index বেশি তারা Insulin এর মাত্রা বাড়ায় Insulin নিজে Aldosterone বাড়ায় শরীরে লবন এবং পানি ধরে রাখে Blood volume বাড়ে Blood pressure বাড়ে শরীরে পানি জমে পা ফুলে যায় (Oedema)। Diabetes Type 2 মূলত Insulin Resistance এর কারনে হয় তাহলে এমন খাবার খাওয়া উচিত না যেটার Insulin Index বেশি।রক্তে Sugar বেশি হলে , Insulin বেশি হলে , kidney নষ্ট হয় ডায়াবেটিসের ওষুধও কিডনী নষ্ট করতে ভূমিকা রাখে। এ কারনেই সকল ডায়াবেটিস রোগীকে নিয়মিত কিডনী পরীক্ষা করতে হয় তবে শেষ পর্যন্ত প্রায় সব রোগীরই কিডনী বিকল হয়। BIRDEM এ এরকম একটি বিভাগই আছে। আমাদের যদি ঘুম ভালো না হয় যদি আমরা অতিরিক্ত দুঃশ্চিন্তা করি তবে আমাদের বডিতে stress hormone release হয় যার মাধ্যমে Blood Acidic হয় Blood pressure বাড়ে আর Diabetes ও বাড়ে আর Muscle ( protein) ভেংগে sugar তৈরি হয় এবং protein এর skeleton kidney দিয়ে প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায় আমরা অনেক রোগীর Urine এ Microalbumin পাই।তাহলে অতিরিক্ত stress আমাদের Kidney নষ্ট করে । Blood Acidic হলে অনেকরকম Inflammation হয় শরীরে অনেক ব্যথা বেদনা হয় যদি আমরা ব্যথার ওষুধ খাই তবে কিডনী নষ্ট হয় এটা আমরা অনেকেই জানি তবে জেনেও ব্যথা সহ্য করতে না পেরে ওষুধ খেয়ে ফেলি। একবার একটু ভাবুন আমরা ডাক্তারগন কি রোগীকে তার রোগের মূল কারন বুঝিয়ে দিচ্ছি তাদের Medicine এর side effects সম্পর্কে কোন counselling করছি নাকি শুধু ওষুধ লিখছি এবং ওষুধের ডোজ বাড়াচ্ছি। বাংলাদেশে আমি অনেক মানবিক ডাক্তারের সঙ্গে কাজ করেছি তারা রোগীদের কষ্ট বুঝে আমাদের সবার উচিত মানবিক ডাক্তার হওয়া । তবেই আমাদের কেউ কসাই বলবে না গুটিকয়েক ডাক্তার টেস্ট লিখে কমিশন খায়, ওষুধ কোম্পানীর টাকা নেয় চুক্তি করে ওষুধ লিখে, ইনসুলিন লেখে, রোগী রেফার করে টাকা নেয়, ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে টাকা নেয়, অপ্রোয়জেন অপারেশন করে কিন্তু বেশিরভাগ ডাক্তারতো অনেক ভালো মানবিক প্র্যাকটিস করে । গুটিকয়েক খারাপ লোকের জন্য পুরো ডাক্তার সমাজের অপমান মেনে নেয়া যায় না । আমি মনে করি ডাক্তারী পেশাটা অন্য পেশার চেয়ে অনেক আলাদা সকল পেশাই মানবিক পেশা তবে এখনও বাংলাদেশের মানুষ ডাক্তারদের ভালোবাসে এবং ভালোবাসে বলেই তাদের কাছে মানবিকতা আশা করে । তারাই তো কোর্টে গিয়ে সরকারি অফিসে গিয়ে মানবিকতা আশা করে না কারন তার mindset বলে দেয় কোথায় কি আশা করি উচিত। আমি সবাইকে বলবো ডাক্তারদের ভালোবাসুন তাদেরকে আরো মানবিক হতে সাহায্য করুন। লম্বা পোস্টটি কষ্ট করে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। বি: দ্র: এখানে যিনি রোগীকে এতগুলো ওষুধ দিতে বাধ্য হয়েছেন তার জায়গায় যে কেউ এত ওষুধ দিতে বাধ্য হবেন এমনকি আমি হলেও। আর রোগীকে আমি নিজেও কোন ভালো পরামর্শ দিতে পারি নাই কারন বার বার বলেছি Organ damage হলে আমাদের কারো কিছু করার থাকে না। আবারও বলছি বাজে মন্তব্য করবেন না পোস্টের মূল উদ্দেশ্য হলো সচেতেন না হলে আমাদের সবারই এমন পরিনতি হবে, তাই চলুন এগুলো থেকে বাঁচতে চাইলে Lifestyle ঠিক করুন ।


written by dr jahangir kabir

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...