Skip to main content

হজ পালন

 


হজের তিনটি ফরজের মধ্যে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত না হলে হজ হবে না। এ ময়দানে মসজিদে নামিরাহ থেকে এবার হজের খুতবা দেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. বান্দার বিন আবদুল আজিজ বালিলা। খুতবার শুরুতে মহান আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর ওপর দরুদ শরিফ পাঠ করেন তিনি। উপস্থিত হাজিদের সুস্থতা কামনা ও তাঁদের জন্য দোয়া করেন। খুতবায় তিনি বলেন, কোনো মুসলমানের যদি সক্ষমতা থাকে, তবে জীবনে একবার হলেও তাঁকে হজ করতে হবে।

ড. বান্দার বিন আবদুল আজিজ বালিলা বলেন, তাকওয়া (আল্লাহকে ভয়) মানুষকে পাপ থেকে দূরে রাখে ও সৎকাজে অনুপ্রাণিত করে। বান্দার প্রতি ইহসান (সুন্দর ব্যবহার, উপকার করা ও উদার আচরণ) করতে হবে। ইহসানের মতো মহৎ গুণ ছাড়া প্রকৃত ইমানদার হওয়া যায় না। এ ছাড়া পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায়, রোজা রাখা, হজ পালন, জাকাত দেওয়া ইসলামের মৌলিক বিধান।

আরাফাতের দিনটি আল্লাহর দরবারে তাঁর বান্দাদের দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ একটি দিন। হজের খুতবায় মহানবী (সা.) যেভাবে হজ পালন করেছিলেন অর্থাৎ আরাফাতে, মুজদালিফায়, মিনায় হজের দিনগুলোতে যা যা করেছিলেন, সেগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেন।

এ বছর হজের খুতবার বাংলা অনুবাদক হিসেবে মনোনীত হন বাংলাদেশের মাওলানা আ ফ ম ওয়াহীদুর রহমান। তাঁর বাড়ি কক্সবাজারে। তিনি মক্কা ইসলামি সেন্টারে দাঈ (ইসলামের দাওয়াতের কাজে নিযুক্ত) হিসেবে কাজ করছেন। গত বছর থেকে আরাফার দিনের খুতবা সরাসরি বাংলাসহ ১০টি ভাষায় অনুবাদ করা হচ্ছে।

আরাফাতের ময়দান মিনা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এ ময়দানে মসজিদে নামিরাহতে জামাতে অংশগ্রহণকারী হাজিরা জোহরের ওয়াক্তে একই আজান ও দুই ইকামতের সঙ্গে একই সময় পরপর জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেন। নামাজের আগে ইমাম সাহেব খুতবা দেন। যাঁরা মসজিদে জামাতে শামিল হতে পারেননি, তাঁরা নিজ নিজ তাঁবুতেই জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করেন। সে ক্ষেত্রে জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে না পড়ে নির্দিষ্ট ওয়াক্তে আলাদাভাবে নামাজ আদায় করেন তাঁরা।

আরাফাতের ময়দান থেকে সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেন হাজিরা। মুজদালিফা যাওয়ার পথে মাগরিবের নামাজের সময় হলেও নামাজ পড়া নিষিদ্ধ। তাই মুজদালিফায় পৌঁছার পর মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করেন তাঁরা।

মুজদালিফার খোলা প্রান্তরে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান হাজিরা। এই মুজদালিফায় হজরত আদম (আ.) ও হজরত হাওয়া (আ.) রাত কাটান। শয়তানের উদ্দেশে পরপর তিন দিন ছোড়ার জন্য ৭০টি পাথর এখান থেকেই সংগ্রহ করতে হয়।

মুজদালিফায় অবস্থান করা ওয়াজিব। ফজরের নামাজ পড়ে দোয়া–দরুদ পড়ে সূর্যোদয়ের কিছু আগে মিনার উদ্দেশে রওনা দেওয়া, বড় জামারাহ্য় গিয়ে শয়তানের উদ্দেশে পাথর নিক্ষেপ করা পরবর্তী কাজ। জামারাহ্ হলো মিনা ময়দানে অবস্থিত তিনটি স্তম্ভ। এগুলোর নাম ছোট জামারাহ্, মধ্যম জামারাহ্ ও বড় জামারাহ্। পাথর নিক্ষেপ–পরবর্তী কাজ হলো দমে শোকর বা কোরবানি করা। জামারাহ্ থেকে বেরিয়ে মাথা মুণ্ডন করতে হয়। পরে গোসল ও সেলাইবিহীন দুই টুকরা কাপড় বদল করবেন হাজিরা। এরপর স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মসজিদুল হারামে গিয়ে কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন। ১০ থেকে ১২ জিলহজ তাওয়াফে জিয়ারত করা হজের অন্যতম ফরজ কাজ। তাঁরা সাফা-মারওয়া সাঈ (সাতবার দৌড়াবেন) করবেন।

তাওয়াফ, সাঈ শেষে সেখান থেকে তাঁরা আবার মিনায় যাবেন। মিনায় যত দিন থাকবেন, তত দিন তিনটি (বড়, মধ্যম, ছোট) শয়তানের উদ্দেশে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করবেন। এভাবেই শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা।

ফেরদৌস ফয়সাল/prothomalo

********************************

আলহামদুলিল্লাহ মুসলমানদের অন্যতম বড় এক উৎসব ঈদ উল আজহার দিন।

আল্লাহ মুসলমানদের যন্য কিছু নির্দিষ্ট দিনে হুকুম করেছেন উৎসব আনন্দ করার জন্য তার মধ্যে ঈদের দিন হলো সর্বোত্তম। তাই এই দিনে সবার মত কে কতক্ষন সুয়ে ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলেন এসবের ফেসবুক পোস্টে অসুস্থ প্রতিযোগিতা না লাগিয়ে কালকের দিনটা সাধ্যমত উপভোগ করার চেস্টা করুন। সবাই অন্তত একজন গরিব মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলুন, কালকে সুধু কোরবানির পশু নয় ত্যাগ করুন নিজের ভেতরের হিংসা, অহংকার আর ঘৃনা। ভাতৃত্ত্ববোধ জাগিয়ে তুলুন নিজেদের মাঝে। সব সময় চেস্টা করুন নিজের মাঝের পবিত্রতা ফুটিয়ে তুলতে। আল্লাহ কাল সকলের কোরবানি কবুক করে নিক, যারা কোরবানি দিতে পারেনি তাদের আগামি বছর কোরবানিতে শরিক হওয়ার তৌফিক দান করুক, সবার মাঝে ঈদের আনন্দ ছরিয়ে পরুক৷ সবাইকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে জানাই ঈদ মোবারাক। ❣️❣️❣️

collected

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...