হযরত ইব্রাহীম (আঃ)কে আল্লাহ বহুবার কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছেন। আর প্রতিবারই তিনি আল্লাহর হুকুম ও সিদ্ধান্তের উপর অটল থেকেছেন। একারনেই ইব্রাহীম (আঃ)এর হজ্ব ও কুরবানীর সুন্নাহকে আল্লাহ আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন। অন্যদিকে ইবলিস শয়তান শত চেষ্টা করেও ইব্রাহীম (আঃ)কে ধোঁকা দিয়ে সফল হতে পারেনি। আল্লাহর হুকুম পালনে ব্যর্থ করতে পারেনি। ইবলিস শয়তান ইব্রাহীম (আঃ), উনার স্ত্রী হযরত হাজেরা (আঃ) এবং উনার পুত্র হযরত ইসমাঈল (আঃ) উনাদের প্রত্যেকের কাছেই বিভিন্ন বেশ ধারন করে উপস্থিত হলো। আল্লাহর আদেশ পালনে বাধা দিতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করলো। বিভিন্নভাবে ধোঁকা দিতে লাগলো। কিন্তু ইবলিস প্রত্যেকের কাছ থেকে বিতাড়িত ও ব্যর্থ হয়েই ফিরে গেল। ইবরাহীম (আঃ) প্রত্যেক বারই তাকে কংকর নিক্ষেপের মাধ্যমে তাড়িয়ে দেন। অদ্যবধি পবিত্র হজ্বে মীনায় কংকর নিক্ষেপের মাধ্যমে এই স্মৃতি উদযাপন করা হয়। কিন্তু সেই ইবলিস শয়তান এখনও মরেনি। আর ইবলিসের বংশধররা আজও বিভিন্ন কৌশলে কুরবানীতে বাধা দিয়ে আসছে। অন্যদিকে সত্যিকারের ঈমানদাররা ইবলিসের নানাবিধ ধোঁকায় বিভ্রান্ত না হয়ে আল্লাহর হুকুম ও সিদ্ধান্তের উপর অটল আছেন। লক্ষ্য করে দেখবেন যে, ইবলিসের অনুসারীরা সারাবছর গনহারে গরু ছাগল মুরগি হত্যা করে উদর পুর্তি করলেও তখন তাদের পশু প্রেম একবারের জন্যও জাগ্রত হয়না। তখন পশুর জন্য একবারও মন কাঁদে না! অথচ কুরবানী এলেই গরুর মাংসে এদের গায়ে এলার্জি উঠে! যেমনটা, যে দাড়ি রাখে তার চুলকায় না, চুলকায় ইবলিসের। সে পর্দা করে তার গরম লাগে না, গরমে অস্বস্তি লাগে ইবলিসের। সাম্প্রতিক সময়ে ইবলিস মানুষকে ধোঁকা দিতে নতুন আরেক কৌশল উদ্ভাবন করলো। আর তা হলো, কুরবানী না দিয়ে সমপরিমাণ টাকা মানুষের কল্যাণে দান করার নসিহত! অথচ আল্লাহ বলছেন, “অতএব তুমি তোমার প্রভুর উদ্দেশ্যে নামায পড় এবং কুরবানী কর।”(সূরা কাওসার:২)। আল্লাহ বলেন; “হে নবী! আপনি বলুন, আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মরণ সবকিছু আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্যে। তাঁর কোন শরীক নেই, এ নির্দেশই আমাকে দেয়া হয়েছে আর আমি হলাম সবার আগে তাঁর অনুগত বান্দা।”(সূরা আন’আম: ১৬২-৬৩)। সেইসাথে সূরা হজ্ব ২৮-৩৭, সূরা বাকারা ১৯৬, সূরা মায়েদা ২, ৯৫-৯৭, সূরা ফাতহ ২৫, জুড়ে কুরবানীর বিধান এসেছে। আল্লাহ আমাদেরকে যে হুকুম দিয়েছেন সেটা পালনের নামই ইবাদত। হ্যাঁ, আপনি মানুষের কল্যাণে অবশ্যই দান করবেন। তবে সেটা কুরবানী হবে না। সেটা দান হবে। নামাজ ও দান যেমন এক না। তেমনি কুরবানী ও দানও এক না। কারন আল্লাহ আমাদের কুরবানী করার হুকুম দিয়েছেন। আর কিভাবে কুরবানী করতে হবে তা রাসুল (সাঃ) আমাদের দেখিয়ে দিয়ে গিয়েছেন। আর আল্লাহর বিধান ও রাসুল (সাঃ)এর সুন্নাহর বিপরীতে আমরা যদি ইবলিসের কৌশল অবলম্বন করি। তাহলে স্পষ্টতই সেটা হবে আল্লাহ প্রদত্ত বিধানের বাইরে নতুন একটা বিধান তৈরীর নামান্তর। যা ইসলামে নেই। আর হাদিসের মতে, “ইসলামে নতুন কিছু সংযোজন পথভ্রষ্টতা, আর প্রত্যেক পথভ্রষ্টই জাহান্নামী।” আল্লাহ আমাদেরকে বিতাড়িত ইবলিসের নিত্যনতুন ধোঁকা থেকে রক্ষা করুন।

Comments
Post a Comment