মাংস না গোস্ত?

গরুর গোস্ত বলা যাবে না। গোস্ত বলা শিরক। কারণ গোস্ত ফারসি শব্দ। ফারসি মাজূসীদের ভাষা। পারস্যের আগুনপূজারীরা এ ভাষায় কথা বলতো। তারা আগুন পানি পাথর বৃক্ষ নক্ষত্র গরু ইত্যাদির পূজা করতো। গোস্ত ফারসি মুরাক্কাব শব্দ।
গো+আস্ত=গোস্ত। ‘গো’ মানে গরু-দেবতা। ‘আস্ত’ মানে আছে, বিদ্যমান, অস্তিত্ব। ‘গোস্ত’ মানে গোরু-দেবতা আছে বা গো-দেবতার অস্তিত্ব। অর্থাৎ পরোক্ষভাবে একটা শিররি আকিদা স্বীকার করা হচ্ছে। কুফুরি হয়ে যাচ্ছে। (গোস্ত, গোসত, গোশত বিভিন্ন মতের বানানবিভেদ)
তাহলে কী বলবো?! মাংস বলবো?!
নাহ, মাংসও বলা যাবে না। কারণ ‘মাংস’ বাংলা শব্দ। বাংলা হিন্দুদের ভাষা। ভারতের মূর্তিপূজারী হিন্দুরা বাংলাভাষা জন্ম দিয়েছে। ‘মাংস’ বাংলা মুরাক্কাব বা সন্ধিবদ্ধ শব্দ। স্বরসন্ধি। মা+অংশ=মাংস। ‘মা’ মানে গো-মাতা। ‘অংস’ মানে ‘অংশ’। ‘মাংস’ মানে গো-মাতার অংশ। অর্থাৎ মাংস বললে গরুকে মা হিসাবে স্বীকার করা হচ্ছে। এজন্য মুরুব্বিরা মাংস বলতে নিষেধ করেছেন।
তাহলে কী বলবো?! মিট বলবো?!
নাহ, মিট তো ইংরেজি শব্দ। ইংরেজি বলা হারাম। বৃটিশরা মুসলমানদের উপরে অকথ্য নির্যাতন করেছে।
তাহলে?! আরবি শব্দ ‘লাহম’। লাহম বলতে হবে?!
নাহ, আরবি তো মুশরিকদের ভাষা। যারা কা’বা শরীফে নগ্নদেহে তাওয়াফ করতো, মেয়েকন্যাকে জীবন্ত কবর দিতো, মশক ভরে রক্ত পান করতো তাদের ভাষা। আরবরা জাহেলি যুগে বিভিন্ন পশুর ‘লাহম’ ভক্ষণ করতো। দেবতার উদ্দেশ্যে ‘লাহম’ উৎসর্গ করতো। এত শত সহস্র পাপে দুষিত কলুষিত আরবি কীভাবে ব্যবহার করবো মুসলমান হয়ে?!
ভাবতে হবে তো! দুনিয়ার সব ভাষাই আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। মানুষ ভাষা সৃষ্টি করে নি। মানুষকেও আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন।
ইসলামের আগে মুশরিকরা যে ভাষা ব্যবহার করতো ইসলামের সম্মানে আল্লাহ নতুন পুতপবিত্র কোনো ভাষা দেন নি। মুশরিকরা যেই ‘লাহম’ দেবতার উদ্দেশ্যে ‘উৎসর্গ’ করতো রাসূল সা. সেই ‘লাহম’ (পশু) আল্লাহর নামে ‘কুরবানি’ করলেন।
আচ্ছা তাহলে আমরা কী বলবো?!
যখন আরবিতে কথা বলবো তখন ‘লাহম’ বলবো।
যখন উর্দু ও ফার্সিতে কথা বলবো তখন গোস্ত বলবো।
যখন বাংলায় কথা বলবো তখন মাংস বলবো।
যখন ইংরেজিতে কথা বলবো তখন মিট বলবো।
কিংবা আমার যে শব্দ পছন্দ সেটাই ব্যাবহার করবো।
source-mv24news/toutube
খেলাধুলাকে খেলাধুলার পর্যায়েই রাখুন। ভিনদেশের খেলাধুলা নিয়ে এরকম উত্তেজনা খুবই হাস্যকর এবং লজ্জাকর। এসব নিতান্তই বাড়াবাড়ি! এগুলোই জাহিলিয়াত।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন শতশত মানুষ মারা যাচ্ছে, খাদ্যের অভাবে লোকজন ধুকেধুকে মরছে, কষ্ট সামলাতে না পেরে কেউ কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। আর আমরা করছি খেলাধুলা নিয়ে মারামারি! অথচ যাদেরকে নিয়ে আমাদের এত উত্তেজনা, তারা হয়তো আমাদের দেশের নামটাও ঠিকভাবে জানেনা। কতোটা অসুস্থ রুচির অধিকারী আমরা! ভেবে দেখেছেন?
অর্থহীন যে কোন কাজকে এড়িয়ে চলাই ইসলামের সৌন্দর্য । ভ্রাতৃত্ব-সৌহার্দ্য অটুট রাখাই ইসলামের দীক্ষা। সামাজিক সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রাখা যেখানে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা, আর সেখানে অমুস/লিমদের খেলায় হারজিতের জের ধরে আমরা একে অপরকে রক্তাক্ত করছি। আফসোস আমাদের বিবেকবোধের এই দৈন্যতার প্রতি। এজাতীয় অতিআবেগ আর বিকৃত মানসিকতাই আমাদের উন্নতি-অগ্রযাত্রার পথে বড় অন্তরায়।
তাই, আসন্ন এই খেলাকে ঘিরে— সব ধরণের বিভক্তি, দলাদলি কিংবা মাতামাতি থেকে বিরত থাকুন। কোন ব্যাপারেই ওভার রিএ্যাক্ট ভালো নয়। এসব তুচ্ছ কারণে বিভক্তি আর ঘৃণার চাষ করবেন না প্লিজ। খেলাধুলাকে খেলাধুলার পর্যায়েই রাখুন।
✍️শায়খ মিজানুর রহমান আজহারি
Comments
Post a Comment