শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়...
মুসলমানদের এবং নবাব সলিমুল্লাহর মনে সৃষ্ট ব্রিটিশদের প্রতি প্রকাশ্য ক্ষোভ প্রশমিত করতে ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ ১৯১২ সালের ৩১ জানুয়ারি ঢাকায় আসেন নবাব সলিমুল্লাহর সাথে সাক্ষাত করতে। ঐ দিনই একটি মুসলিম প্রতিনিধি দল নিয়ে নবাব সলিমুল্লাহ ভাইসরয়ের সাথে সাক্ষাত করে মুসলমানদের বিভিন্ন দাবীর সাথে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবীটি পুনরায় উল্লেখ করেন। ক্ষুব্ধ নবাবকে শান্ত করতেই দুদিন পর ১৯১২ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করেন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ। এই ঘোষণার পরপরই বঙ্গভঙ্গ রহিত করার সদ্য সাফল্যে উজ্জীবিত হিন্দু নেতারা অনুরূপ আন্দোলন ও প্রতিবাদ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সরকারী ঘোষণাকে বাতিল করতে তৎপর হয়ে ওঠেন। এই তৎপরতায় নেতৃত্ব দেন কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর, কংগ্রেস নেতা সুরেন্দ্র নাথ ব্যানার্জী ও কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর স্যার আশুতোষ মুখার্জী। কলিকাতা, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশালের হিন্দু নেতারা একাধিক প্রতিবাদ সভা করেন। কলিকাতার গড়ের মাঠে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এগুলো সত্য ইতিহাস। ইচ্ছে করলেই আপনি এড়িয়ে যেতে পারেন না। (তখনকার হিন্দু সমাজের প্রেক্ষাপট আর স্বাধীন বাংলাদেশের বর্তমান হিন্দু সমাজকে এক করে না দেখার অনুরোধ রইল।) ১৯১২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ড. রাসবিহারী ঘোষ কয়েকজন হিন্দু নেতাসহ ভাইস রয়ের সঙ্গে সাক্ষাত করে যে স্মারক লিপি প্রদান করেন তাতে বলা হয় “ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হবে আভ্যন্তরীনভাবে বঙ্গভঙ্গের সমতুল্য”। এমন কয়েক ডজন স্মারকলিপি দেয়া হয়। এগুলোতে বলা হয়েছিল, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলে বাঙালী জাতি বিভক্ত হয়ে পড়বে, তাদের মধ্যে বিরোধের তীব্রতা বেড়ে যাবে”। কোন স্মারক লিপিতে বলা হয়েছে, “পূর্ব বাংলার মুসলমানদের অধিকাংশই কৃষক, এই সকল চাষা-ভূষাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন নেই”। অসাম্প্রদায়িক ও মানবহিতৈষী খেতাবে ভূষিত এই সকল বর্ণবাদী হিন্দু নেতাদের প্রবল বিরোধিতার পরও প্রস্তাবিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সাম্প্রদায়িক নামে অভিযুক্ত নবাব সলিমুল্লাহ নিজের প্রায় ৪০০ একর জমি দান করেন। এগুলো পুরনো কাসুন্দি। সবাই জানি, কিন্তু স্বীকার করতে লজ্জা পাই। যেটা জানেননা তা হলো ওয়েবসাইটে ঢাবির শ্লোগান কি জানেন- "সত্যের জয় সুনিশ্চিত "। নবাব স্যার সলিমুল্লাহর কি দোষ, যার ব্যাক্তিগত টাকা আর ৪০০ একর জমির উপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দাড়িয়ে আছে তাকে কেন অন্য সময় তো দুরের কথা এমনকি শতবর্ষ পালনেও স্মরণ করা হলো না। collected

Comments
Post a Comment