Skip to main content

সরকারী চাকরী নাকি ফ্রিল্যান্সিং ?

 ক্যারিয়ার হিসেবে কোনটি ভাল ও সিকিউরড ? সরকারী চাকরী নাকি ফ্রিল্যান্সিং ? আসুন বিষয়টি যুক্তিসংগতভাবে বুঝার চেষ্টা করি ।


১. স্টূডেন্ট অবস্থায় সরকারী পাওয়া সম্ভব নয় কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং করতে কোন বাধা নেই । ২. গ্রাজুয়েশন কম্পিলিট হয়ে থাকলে - সরকারী চাকরীর পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য কমপক্ষে এক বছর কঠিনভাবে পড়াশুনা করতে । এই একবছর সাধনার পরও মাত্র ১% মানুষ সরকারী জব পায় । তার মানে আপনি যদি সরকারী চাকরীর পিছনে ১ বছর সময় নষ্ট করেন তবে ৯৯ ভাগ সম্ভাবনা চাকরী পাবেন না । কিন্তু যেভাবে কঠিন মনযোগ দিয়ে সরকারী চাকরীর জন্য পড়াশুনা করবেন সেইভাবে শুধুমাত্র ৩ মাস ডেইলি ১২ ঘন্টা করে ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য পড়াশুনা করলে হাইলি স্কিলড লেভেলে কাজ শিখা যায় । ৩. একজন সরকারী কর্মকর্তা শুরুতে বেতন পান মাত্র ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা । একজন ফ্রিল্যান্সার প্রথম কয়েক মাস ২০ হাজার টাকার বেশী ইনকাম করতে পারে না । কিন্তু দুই-তিন মাস ছোট খাট খুচরা কাজগুলো করে অভিজ্ঞতা ও স্কীল অর্জন করলে বড় বিদেশী কোম্পানীতে স্থায়ী চাকরী পাওয়া যায় । স্থায়ী চাকরীতে সর্বনিন্ম বেতন কমপক্ষে ১২০০ ডলার বা প্রায় এক লাখ টাকা । আমেরিকান সেলারী স্কেল অনুযায়ী এটা খুবই কম বেতন । আমাদের আর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনেক বেশী বেতন মনে হতে পারে । একবছর পর কোন সরকারী চাকরীতে বেতন দ্বিগুণ হয় না কিন্তু আপনি যদি প্রতিদিন ১২ ঘন্টা করে সময় দেন এবং জীবনের একমাত্র পেশা হিসেবে মেনে নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করেন তবে বেতন প্রতি ৬ মাস পর পরই ডাবল হয় । অর্থাৎ এক বছর পর থেকে প্রতি মাসে এক লাখ টাকার বেশী ইনকাম করা যায় । আপনি লেগে থাকলে উত্তোত্তর সেলারী আরো বাড়তে থাকবে । মোটামোটি ২ বছর পর থেকে প্রতি মাসে ২ লাখ টাকার বেশী ইনকাম করতে পারে । তবে শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না প্রতিদিন চাকরীর মত করে ১২ ঘন্ট অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হবে সঠিক গাইডলাইন মেনে । ৪. জব সিকিউরিটি: সরকারী চাকরী যতই সিকিউরড হোক পলিটিক্যাল কারণে বা অফিস পলিটিক্স বা ষড়যন্ত্রের কারণে চাকরী চলে যেতে পারে কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং এ যদি আপনি কাজ পারেন, কাজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকে চাকরীর কোন অভাব হবে না । একটি চাকরী ছেড়ে দিলে দিনে দিনেই ভাল বেতনে আরেকটি চাকরী পাওয়া যায় । সারা পৃথিবীব্যাপি প্রায় ২০০ টি দেশের লাখ লাখ কোম্পানী ফ্রিল্যান্সিং জব প্রোভাইড করে । সুতরাং সরকরী চাকরীর চাইতেও ফ্রিল্যান্সিং সিকিউরড । ৫. পেনশন: সরকারী চাকরী শেষ করার পড় আপনি এককালীন ৫০ লাখ টাকা পাবেন আর মাসে মাসে আজীবন পেনশন পাবেন । আচ্ছা ৩০ বছর পর ৫০ লাখ টাকার মান হয়ত ৫ লাখ টাকার সমান ও হবে না । আর জীবনের শেষ বয়সে ৫০ লাখ টাকা দিয়ে কি করবেন যদি যুবক অবস্থায় শখ পূরণ করতে না পারেন । আর যদি আপনি প্রতি মাসে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে একটি পেনশন স্কীম খোলেন তবে ব্যাংক আপনার শেষ বয়সে আপনাকে আজীবন পেনশন দিয়ে যাবে যেটার পরিমাণ সরকারী পেনশনের চাইতে বেশী হবে । ৭. হালাল উপার্জন: অনেক সময় একজন সরকারী চাকুরীজীবকে অনেক ক্ষেত্রেই আপোষ করতে হয়, বিবেক বিরুদ্ধ কাজ করতে হয়, সারা জীবন অপরাধবোধে ভুগতে হয় । এটা সব ক্ষেত্রে বা সবার ক্ষেতে না কিছু ক্ষেত্রে হতে পারে । কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং এ আপনি ১০০% সততার সাথে হালাল ইনকাম দিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে পারবেন । ৮. সরকারী চাকরী পাওয়ার দৌড়ে নিজের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে নি:স্ব হয়ে হতাশাগ্রস্থ জীবন কাটানোর খবর শুনা যায় কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং এ কখনো আপনার বড় মামা বা ছোট মামার প্রয়োজন হবে না, কখনো অন্যায় বা অবৈধভাবে কাউকে টাকা দিতে হবে না । কাজ জানা ও দক্ষতাই এখানে প্রথম ও শেষ কথা । ৯. সামাজিক সম্মান: ৫ বছর আগেও ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে মানুষ বুঝত না কিন্তু এখন সরকার, প্রিন্টিং মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এত বেশী ফ্রিল্যান্সিংকে উৎসাহিত করে যে এখন যে কোন সাধারণ মানুষও এই পেশা সম্পর্কে জানে এবং একজন ফ্রিল্যান্সার কে ইন্টেলেক্চুয়াল হিসেবে মর্যাদা দেন । আরেকটি কথা হল নিজের পরিচয় দেয়ার ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং শব্দটা বলার দরকার কী । বলবেন ” আমি ইন্টারনেটোর মাধ্যমে একটি আমেরিকান কোম্পানীতে চাকরী করি” । যে কেউ বুঝবে আপনি সাধারণ না বরং অসাধারণ । ১০. সামাজিক অবদান: একজন ফ্রিল্যান্সার যখন দক্ষ ও অভিজ্ঞ হয় তখন অনেক বেশী কাজের অফার পায় । এত কাজ একা করা সম্ভব নয় তাই প্রত্যেক সিনিয়র ফ্রিল্যান্সার আরো ১০/১৫ জন লোক নিয়োগ দিয়ে বড় আকারে কর্পোরেট লেভেলে কাজ করে । এভাবে ফ্রিল্যান্সাররা বেকার সমস্যা সমাধানে ব্যাপক অবদান রেখে চলছে । ১১. ফ্রিল্যান্সিং বন্ধ হয়ে যাবে কিনা ? আমদের অনলাইন নির্ভরতা দিনে দিনে দিনে বাড়ছে । প্রতিদিন পৃথিবীব্যাপী লাখ লাখ কোম্পানী সরসরি অফিসে কাজ না করিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে করাচ্ছে কারণ এতে কোম্পানীর খরচ অনেক কমে যায় । মূলত বিদেশী কোম্পানীগুলো কম টাকায় ভিন্ন দেথের মানুষকে দিয়ে চাকরী করানোর উদ্দেশ্যে এই সিস্টেম চালু করেছে । যদি ফ্রিল্যান্সিং বন্ধ হয়ে যায় তবে উন্নত দেশের অসংখ্য প্রতিষ্ঠান লস করবে এবং বন্ধ হয়ে যাবে । বাংলাদেশের সকল মানুষ যদি ফ্রিল্যান্সিং করে তবু্ও চাকরী কমবে না বা বেতন কমবে না করাণ প্রায় ২০০ টি দেশের কোম্পানী ফ্রিল্যান্সিং এর জব দেয় আর প্রতি বছর যেই পরিমাণ ফ্রিল্যান্সিং জব অপরচুনিটি তৈরী হয় সেই পরিমাণ ফ্রিল্যান্সার বাড়ে না । ১০০ টা নতুন পোষ্ট তৈরী হলে ফ্রিল্যান্সার বাড়ে বড়জোর ৫ জন । এখানে ফ্রিল্যান্সার বলতে শুধুমাত্র তাদেরকেই বুঝানো হচ্ছে যারা প্রফেশনাল লেভেলে কাজ পারে । তাই দিন দিন ফ্রিল্যান্সিং এর বেতন বাড়ছে । ৩ বছর আগেও যেখানে ফ্রিল্যান্সিারদের শুরুতে ইনকাম ছিল ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা আর এখন তা ২০ হাজার টাকা । ভবিষ্যতটা আপনিই অনুমান করে নিন । সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আমাদের ফ্রি ভিডিও দেখে ফ্রিল্যান্সিং শিখতে এই লিংকে ক্লিক করুন:
http://www.outsourcinghelp.net/course/

source-outsourcing institute by Jamal sir

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...