'আশা' একজন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। জীবনের সবচেয়ে বিভীষিকাময় মুহূর্তটিতেও আমাদের প্রত্যাশা থাকে নতুন দিগন্তের। কিন্তু হতাশাবোধের চাদরে যার প্রত্যাশার দৃষ্টি ঢেকে গেছে, তার বেঁচে থাকাটা আসলে কতখানি অতৃপ্তির? কিন্তু এই হতাশাকে ঠেলে দূরে সরিয়ে দেয়ার জন্য, অবশ্যই আমাদের কিছু করণীয় আছে। যেমন - ১. Stop comparison: আমাদের সমাজে হতাশার একটি বড় কারণ হলো - তুলনা। আপনি পৃথিবীতে যে অবস্থানেই থাকুন না কেন, সর্বদা আপনার ওপরে কিছু মানুষ থাকবে, আপনার নিচে কিছু মানুষ থাকবে। সিদ্ধান্ত সবসময়ই আপনার হাতে; আপনি কার সাথে নিজেকে তুলনা করবেন! আপনি নিজেই নিজের তুলনা, অন্য কেউ নয়! ২. Qualities within you: একটি ক্ষেত্রে ব্যর্থতার চেহারা দেখে আপনি হতাশ হয়ে পড়লেন, অথচ আপনার মাঝে এমন কতগুলো গুণ আছে, যা দেখে লোকে আপনাকে হিংসে করে! নিজের ইতিবাচক দিকগুলোকেও স্বীকার করুন, দেখবেন আত্মবিশ্বাস স্বয়ংক্রিয়ভাবেই কয়েকগুণ বেড়ে গেছে! ৩. Try again: কথায় আছে - "একবার না পারিলে দেখো শতবার"। সেখানে আপনি ৫ বার চেষ্টা করে হাঁপিয়ে উঠছেন! কিভাবে হবে, বলুন? হয়তোবা আগামী বারই সফলতা আপনার ললাটে লেখা, কিন্তু হতাশায় আপনি পিছিয়ে পড়লেন। আর একটিবার নিজেই নিজের অবস্থান পাল্টানোর চেষ্টা করে দেখুন। ৪. Mindfulness: অতীতে আপনি কী ভুল করেছেন এবং ভবিষ্যতে কি হতে পারে - এই দু'ই চিন্তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আপনার মনের প্রশান্তি কেড়ে নিতে পারে। Mindfulness এই শিক্ষাই আমাদেরকে দেয়, বর্তমানের প্রতি মনোনিবেশ করা। অতীত বা ভবিষ্যৎ এর ধ্যানে মগ্ন থেকে উপস্থিত মুহূর্তকে হারানোর কোন মানেই হয়না! ৫. Psychotherapy: সব সময় তীব্র হতাশাবোধ থেকে একা উঠে আসাটা সম্ভবপর নয়। এসময় সাহায্য চাইতে লজ্জা করবেন না। সাইকোথেরাপি আপনাকে এমন অনেকগুলো দিকের সন্ধান দিতে পারে, যা হয়তো স্বাভাবিক অবস্থায় আপনার দৃষ্টিগোচর নয়। তাই প্রয়োজনে আভিমুখ্যতা চাইতে কৃপণতা করবেন না। মনে রাখবেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি নিশ্বাস নিচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত পরিস্থিতি আপনার অনুকূলে আসার সম্ভাবনা আছে। আপনার স্বপ্নীল দু'টি চোখে স্বপ্নই শোভা পায়, হতাশা নয়!
source-lifespringlimited/youtube
Comments
Post a Comment