Skip to main content

কিডনি ফেইলিউর

 আমাদের দেশে মেডিসিন ওয়ার্ডগুলোতে সবচেয়ে বেশি যে রোগী পাওয়া যায় তাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের রোগী অন্যতম। মেডিকেল শাস্ত্র অনুযায়ী রোগটির নাম Chronic Kidney Disease (CKD)। এই রোগে কিডনি তার কাজগুলো ঠিকঠাকভাবে করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। রোগটি বোঝাতে কিডনি ফেইলিউরও বলে থাকেন অনেকে।

- কারা বেশি আক্রান্ত হয়? এই রোগটি অনেকটাই বয়সের সাথে সম্পর্কিত৷ বয়স যতো বাড়তে থাকে, কিডনি রোগের সম্ভাবনাও বাড়তে থাকে। ৬৫-৭৪ বছর বয়সী পুরুষদের প্রতি ৫ জনের ১ জন কিছু না কিছু মাত্রার ক্রনিক কিডনি ডিজিজে আক্রান্ত। ঠিক একইভাবে এই বয়সী নারীদের প্রতি ৪ জনের ১ জন আক্রান্ত। এই রোগটির প্রবণতা দক্ষিণ এশিয়ায় (ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তান) এবং আফ্রিকান-ক্যারিবিয়ানদের মধ্যে বেশি৷ - কেন এই অঞ্চলে বেশি? ক্রনিক কিডনি ডিজিজ হবার যতোগুলো কারণ আছে তার মধ্যে ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ অগ্রগণ্য। এই রোগের কারণ প্রায় ২৫% ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস। আবার ২৫% ক্ষেত্রে কারণ উচ্চ রক্তচাপ। দক্ষিণ এশিয়ার মানুষদের মধ্যে ডায়াবেটিসের হার অনেক বেশি৷ তাই এই রোগটিও বেশি। অন্যদিকে আফ্রিকান-ক্যারিবিয়ানদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের হার বেশি হওয়াতে এই রোগটি সচরাচর হয়। - কী কী লক্ষণ থাকে? এই রোগটির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে রোগটি অনেকদূর অগ্রসর হবার আগ পর্যন্ত সাধারণত কোনো লক্ষণ প্রকাশিত হয় না৷ রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক দিকে সাধারণত রোগটি নিরূপণ করা হয়। ক্রনিক কিডনি ডিজিজের রোগীদের অনেক লক্ষণই থাকতে পারে, তবে মূল লক্ষণগুলোর কয়েকটি উল্লেখ করছি - ১. ক্লান্তিবোধ ২. পায়ের গোড়ালি, পা, হাত, মুখমণ্ডল ইত্যাদি ফুলে যাওয়া ৩. শ্বাসকষ্ট ৪. বমিবমি ভাব ৫. প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া - শরীরে কী ঘটে এই রোগে আক্রান্ত হলে? কিডনি আমাদের শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। নানা অত্যাবশকীয় কাজ সম্পন্ন হয় কিডনির মাধ্যমে। ১. কিডনির প্রধান কাজ রক্তকে ছেঁকে দূষিত পদার্থগুলো প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেওয়া। ২. রক্তচাপের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ৩. আমাদের শরীরের রাসায়নিক পদার্থগুলোর উপযুক্ত মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে, যার ফলে হৃদপিণ্ড এবং মাংসপেশি সঠিকভাবে কাজ করতে পারে। ৪. ভিটামিন-ডি-এর কার্যকরী রূপটি তৈরি করে কিডনি যা হাড়কে মজবুত রাখকে ৫. ইরাইথ্রোপোয়েটিন নামক একটি জিনিস তৈরি করে যা আমাদের শরীরের লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। যখন কেউ ক্রনিক কিডনি ডিজিজে আক্রান্ত হয়, তখন শরীরের এই সবগুলো কাজেই ব্যাঘাত ঘটে এবং শরীরে নানামুখী সমস্যার সৃষ্টি হয়। - চিকিৎসা কী? সত্যি বলতে এই রোগটি হয়ে গেলে আর আরোগ্যের সুযোগ নেই। তবে চিকিৎসা করাটা জরুরি৷ এতে রোগটি খারাপের দিকে যাবার গতি শ্লথ করা বা থামানো সম্ভব, জটিলতা কমানোও সম্ভব। কিছু সংখ্যক রোগীর ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হয়। কারও কারও কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন পড়ে। - কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়? ১. ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা। ২. সুষম খাবার খাওয়া। ৩. অতিরিক্ত মদ্যপান পরিহার করা। ৪. নিয়মিত ব্যায়াম করা। ৫. কিডনিতে ক্ষতি করে এমন ওষুধ পরিহার করা।
source-lifespringlimited/youtube

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...